কোচবিহার বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট প্রচারের দায়িত্বে পার্থ

943

কোচবিহার: কোচবিহার উত্তর ও দক্ষিন বিধানসভা কেন্দ্রে দলের কোনো বিধায়ক না থাকায় এবার পরিস্থিতি সামলাতে নিজেই নেমেছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়। কেন্দ্র দুটিতে প্রতিদিন কোন না কোন একটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে বেছে নিয়ে সেখানে দিনভর দলের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজকর্মের প্রচার ও দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচী করছেন তিনি। গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে এই প্রচারে তিনি মূলত খুলি বৈঠকের উপরে জোর দিয়েছেন। বৈঠকগুলিতে দলের বিভিন্ন প্রকল্প গ্রামের সাধারণ মানুষকে বোঝাচ্ছেন। পাশাপাশি তাঁরা যাতে বিজেপির ভাওতায় পা না দেন সে বিষযে এই সমীক্ষা মূলক প্রচারগুলিতে মানুষকে সাবধান করেন তিনি।

ইতিমধ্যেই কেন্দ্র দুটির বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে জনসংযোগ তথা দলের এই প্রচারের কাজ সেরেছেন তিনি। চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এই বিধানসভা কেন্দ্র দুটির সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতে এই জনসংযোগ কর্মসূচী তথা দলের প্রচারের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি জেলার বাকী যে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা যেখানে তাকে বলবেন সেইসব জায়গাগুলিতে প্রচার করবেন।

- Advertisement -

কোচবিহার জেলায় মোট নয়টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচন এগিযে আসতেই তৃণমূল, বিজেপি, বাম-কংগ্রেস সহ সমস্ত রাজনৈতিক দলই কেন্দ্রগুলিতে তাদের জোর প্রচার শুরু করেছে। এই অবস্থায় এতদিন জেলায় নয়টি বিধানসভা কেন্দ্রর মধ্যে একমাত্র কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র ছাড়া বাকি ৮ টি বিঝানসভা কেন্দ্রেই তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন।

সম্প্রতি কোচবিহার দক্ষিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক মিহির গোস্বামী বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় কোচবিহার উত্তর ও দক্ষিন এই দুটি কেন্দ্রে বিধায়কহীন হযে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। পরিস্থিতির সুযোগ নিযে কেন্দ্র দুটিকে বিজেপিও তাদের পাখির চোখ করেছে। কেন্দ্রদুটিতে যাতে দল দূর্বল না হয়ে পড়ে সে কারণে এবার এই কেন্দ্র দুটিতে দলের প্রচার ও কর্মসূচী করার মূল দায়িত্ব তৃণমূলের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় তাঁর নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে কেন্দ্র দুটিতে তিনি লাগাতাঁর প্রচার কর্মসূচী চালিযে যাচ্ছেন সকাল থেকে একেবারে রাত পড়ন্ত। এমনকি দুপুরের খাওয়া-দাওয়া পড়ন্ত গ্রামে বিভিন্ন কর্মীর বাড়িতে মাটিতে বসে কলাপাতায় সারছেন।

বিষয়টি নিযে এদিন পার্থপ্রতিম রায় বলেন, ‘যেহেতু কোচবিহার উত্তর ও দক্ষিন এই কেন্দ্র দুটিতে তাদের দলের বিধায়ক বর্তমানে নেই। তাই এই দলের কর্মসূচী ও প্রচার চালাতে এই কেন্দ্র দুটিকে তিনি মূলত প্রাধান্য দিচ্ছেন।‘

বিজেপির জেলা সভাপতি মালতি রাভা বলেন, ‘শাসকদলের জেলা সভাপতিকে কেন এখন গ্রামের বুথে বুথে গিযে প্রচার করতে হচ্ছে? এতদিন ওরা কেন মানুষের পাশে থাকেনি। এখন যেহেতু সামনে ভোট এসেছে। সে কারণে এতদিনে তাদের মানুষের কথা মনে পড়ল।‘ তিনি বলেন, ‘মানুষ তৃণমূলের পাশ থেকে সরে গিয়েছে। এসব করে আর ওদের কোন লাভ হবে না।‘