স্ট্যানফোডের্র বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় কোচবিহারের পার্থপ্রতিম

14978

কোচবিহার ও মালদা : বিশ্বের সেরা দুই শতাংশ বিজ্ঞানীদের মধ্যে নাম রয়েছে সিকিম কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পার্থপ্রতিম রায়ের। বিজ্ঞানের সব ক্ষেত্র মিলিয়ে বিশ্বের সেরা দুই শতাংশ বিজ্ঞানীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। সেই তালিকায় কোচবিহারের এই ছেলের নাম রয়েছে। জন্মসূত্রে তিনি কোচবিহারের বাসিন্দা। শহরের নিউটাউন সংলগ্ন এলাকায় তাঁর বাড়ি। স্ট্যানফোর্ডের লিস্টে কোচবিহারের ছেলের নাম থাকায় খুশি জেলাবাসী। গোটা বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে ২৩,৩৯৪তম স্থানে। ভারতের তালিকায় ১৬৮ নম্বরে আছেন তিনি। এই তালিকাতেই স্থান পেয়েছেন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অধ্যাপক স্বদেশ পাল ও  শ্যামাপদ মণ্ডল ।  তাঁদের স্বীকৃতিতে খুশির হাওয়া গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ইন্টারনেট অফ থিংগস (আইওটি)-এর স্মার্ট হেলথ কেয়ারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন পার্থপ্রতিম। স্মার্ট স্যালাইন মনিটরিং সিস্টেম সহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কাজ করছেন। পার্থপ্রতিম জানান, কম শক্তিশালী যন্ত্রে (মাইক্রোকন্ট্রোলার) ইন্টারনেট থেকে তথ্য আদানপ্রদান যাতে করা যায়, সেজন্যই তিনি রিসার্চ করে চলেছেন। কৃষিক্ষেত্রে, স্মার্ট ট্রান্সপোর্টেশন, স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি সহ বিভিন্ন জায়গায় এই যন্ত্রাংশগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই বিষয়টিকেই বলা হয় ইন্টারনেট অফ থিংগস (আইওটি)। আইওটির মধ্যে হেলথ কেয়ারের ওপরে তিনি কাজ করছেন। পার্থবাবুর বাবা রঞ্জিতকুমার রায় দিনহাটার সবুজপল্লি হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। মা দীপিকা রায় গৃহবধূ। পার্থপ্রতিম জেনকিন্সের ছাত্র ছিলেন। এরপর বিটেক, এমটেক করে বর্তমানে চাকরিসূত্রে তিনি সিকিম বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছেন। পাঠ নিয়েছেন বেশ কিছু নামী প্রতিষ্ঠানে। এসেছে পুরস্কার ও সম্মানও। গত বছর ইনস্টিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্স (ইন্ডিয়া) থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ফিল্ডের ইয়াং ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাওয়ার্ডে পুরস্কৃত হয়েছেন তিনি। তাঁর সহধর্মিণী পৌলোমী মজুমদারও বায়োটেকনলজিতে পিএইচডি করেছেন ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অফ টেকনলজিতে। তাঁদের একটি কন্যা রয়েছে। পার্থবাবু এখন পিএইচডি করছেন এনআইটি পাটনা থেকে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় লক্ষাধিক বিজ্ঞানীর নাম রয়েছে। তার মধ্যে কোচবিহারের ছেলের নাম থাকায় খুশি তাঁর পরিবার-পরিজনরাও। বাবা রঞ্জিতকুমার রায় বলেন, ছেলের এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ও যেভাবে কাজ করছে, তাতে আমি খুশি। পার্থপ্রতিম বলেন, এই তালিকাটি জরুরি। এখান থেকে বোঝা যাবে কে রিসার্চ কতটা ভালো করছে। যে বিশ্ববিদ্যালয় এই তালিকা তৈরি করেছে, তাদের সাধুবাদ জানাই। এর থেকে বুঝতে পারলাম আমরা কে কোথায় দাঁড়িয়ে আছি। আমরা ভবিষ্যতে রিসার্চকে কতদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব, সেটার ধারণাও পেলাম।

- Advertisement -

অন্যদিকে, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বিপ্লব গিরি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের অধ্যাপক স্বদেশ পাল ও জুওলজির অধ্যাপক শ্যামাপদ মণ্ডলের নাম  স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান পেয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এটা একটা বড় স্বীকৃতি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে তরফে দুই অধ্যাপককে অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অধ্যাপকের গুগল স্কলার ডিসাইটেশন অনেক উঁচুতে রয়েছে। এটিও সেরা বিজ্ঞানীর উৎকর্ষতার একটি মাপকাঠি।  স্বীকৃতি পেয়ে খুশি অধ্যাপক স্বদেশ পাল। তিনি বলেন, আমি আপ্লুত। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সমীক্ষায় আমার নাম অন্তর্ভুক্তি করেছে। এই সম্মান আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।