কৃষি বিল: অ-বিজেপি দলগুলিকে যৌথ আন্দোলনে নামার আহ্বান পার্থর

443

কলকাতা: সংসদের উভয় কক্ষে পাস হওয়া কৃষক বিরোধী বিলের প্রতিবাদে শুধু তৃণমূল কংগ্রেস রাস্তায় নামলেই হবে না। বিজেপি বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দলের ছাত্র, যুব, শ্রমিক সংগঠন-সহ সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নামতে হবে। বুধবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের মধ্য কলকাতার মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির নিচের অবস্থান বিক্ষোভে একথা বলেন তৃণমূল মহাসচিব তথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি।

পার্থবাবু বলেন, কেন্দ্রের সরকার সমস্ত কিছু বেসরকারিকরণ ও বিলগ্নীকরণের পথে নেমেছে। তাই এই সরকারকে হটানোর জন্য সমস্ত মানুষকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আন্দোলনে সমবেত হতে হবে। তা না হলে বাংলা তো বটেই, দেশকেও বাঁচানো সম্ভব নয়। পার্থর অভিযোগ, কেন্দ্রের বিজেপি শাসিত সরকার শুধু গণতন্ত্রবিরোধী সরকারই নয় নয়, কৃষক-শ্রমিক গরীব, নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষদের আজ মৃত্যুর মুখে টেনে এনেছে। সংকটের মুখে পড়েছে দেশ। আর এরই মধ্যে তারা আবার বাংলা জয়ের স্বপ্ন দেখছে। যা বাতুলতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

- Advertisement -

পার্থর দাবি, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলন করেই রাজ্যের রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু তার পরেও তৃণমূল মানুষের জন্য আন্দোলনকে ভুলে যায়নি। এই কারণেই কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক জনস্বার্থবিরোধী নীতির প্রতিবাদে তারা মুখর হচ্ছেন, আগামী দিনেও হবেন।

এদিন ওই অবস্থান বিক্ষোভে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য বলেন, বিজেপি শুধু আদানি, আম্বানিদের কথা ভাবে। সাধারণ মানুষের কথা কখনো চিন্তা করেনা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একমাত্র ব্যক্তি যিনি সাধারণ মানুষ, ছাত্র-যুব, কৃষক-শ্রমিকদের কথা চিন্তা করেন। এ কারণে দেশজুড়ে কৃষকের আত্মহত্যার মিছিল শুরু হলেও বাংলায় একজন কৃষকও আত্মহত্যা করেননি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষক-শ্রমিক সহ রাজ্যের সমস্ত মানুষকে বুক দিয়ে আগলে রেখেছেন। তাই তিনি আজ বাংলার মানুষের নয়নের মনি হয়ে উঠেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার যতদিন না পর্যন্ত কৃষক বিরোধী বিল প্রত্যাহার করছে ততদিন পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

উল্লেখ্য, সংসদের উভয় কক্ষে পাস হওয়া কৃষি বিল-এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার থেকে মধ্য কলকাতার ধর্মতলার মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে অবস্থান-বিক্ষোভ ডাক দিয়েছে তৃণমূল।গতকাল সেই অবস্থান বিক্ষোভে অংশ নেয় তৃণমূলের মহিলা শাখা। আর এদিন ওই অবস্থান-বিক্ষোভের মঞ্চ সামলায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। আগামী কাল,পরশু দু’দিন তৃণমূলের কৃষক-ক্ষেতমজুর সংগঠনের পক্ষ থেকে অবস্থান-বিক্ষোভ মঞ্চের কর্মসূচি পালিত হবে বলে জানা গিয়েছে।