আলো-জল নেই, গয়েরকাটা শ্মশানে পার্থেনিয়ামের ঝোপ

গয়েরকাটা : ডুয়ার্সের অন্যতম প্রধান শ্মশান গয়েরকাটা শ্মশানে পরিকাঠামোগত সমস্যার জেরে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতে শ্মশানে আলোর ব্যবস্থা নেই, জলও মেলে না। এমনকি গোটা এলাকা বিষাক্ত পার্থেনিয়াম গাছে ছেয়ে গিয়েছে। সমস্যার সমাধানে শ্মশানে পর্যপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা সহ পরিকাঠামো উন্নয়ন ও বৈদ্যুতিক চুল্লি স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এ প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, বৈদ্যুতিক চুল্লি বসানোর ব্যাপারে মানুষের দাবি থাকলে সেটি প্রস্তাব আকারে দপ্তরের কাছে পাঠানো হোক। আমরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

গয়েরকাটার পাশাপাশি সংলগ্ন বানারহাট, বিন্নাগুড়ি, আলিপুরদুয়ার জেলার এথেলবাড়ি ও বীরপাড়ার বাসিন্দারাও এই শ্মশানের উপর নির্ভরশীল। কিছুদিন আগেই সাঁকোয়াঝোরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে শ্মশানের পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্দেশ্যে চুল্লি, শেড ইতাদি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এই শ্মশানের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলছেন বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, এখানে রাতে কোনও বাতি না জ্বলায় গোটা এলাকা অন্ধকারে ডুবে থাকছে। শ্মশানের জলের মোটর চুরি হয়ে যাওয়ায় সেই পরিষেবাও মিলছে না দীর্ঘদিন ধরে। শ্মশান চত্বর পার্থেনিয়ামের ঝোপে ছেয়ে গিয়েছে। এমনকি সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে কাদা হচ্ছে। বানারহাটের বাসিন্দা শুভঙ্কর ঘোষ বলেন, শ্মশানে কোনও আলো জ্বলছে না, জলের মোটর নেই। এত মানুষ যে এলাকার ওপর নির্ভরশীল সেখানের পরিকাঠামো উন্নত করা প্রযোজন। স্থানীয় বাসিন্দা দেবজিৎ দাস বলেন, আমাদের এই শ্মশানের ওপর বিভিন্ন এলাকার মানুষ নির্ভর করেন। যার ফলে শ্মশান চত্বর সাফ করে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা উচিত ছিল।

- Advertisement -

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সত্যব্রত চক্রবর্তী বলেন, আলোটি কয়েকদিন আগে নষ্ট হয়ে যায়। পার্থেনিয়াম গাছ কাটার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমি এই বিষয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের সঙ্গে কথা বলব। গ্রাম পঞ্চায়েতের শিল্প ও পরিকাঠামো সঞ্চালক গোপাল চক্রবর্তী বলেন, সমস্যার কথা আমার জানা ছিল না। কিছুদিন আগে যে লাইট লাগানো হয়েছিল সেটিকে মেরামত করা সহ মোটর লাগানো ও অন্য সমস্যার সমাধান করা হবে। পাশাপাশি আমরা উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রীর কাছে বৈদ্যুতিক চুল্লি বসানোর দাবি জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুত সেই বিষয়ে সুখবর পাব।