অক্সফোর্ডের টিকা নিয়ে স্নায়ুরোগের অভিযোগ, ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি চেন্নাইয়ের বাসিন্দার

945
ছবি: সংগৃহীত।

নয়াদিল্লি : অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রোজেনেকার তৈরি করোনা টিকা নিয়ে বড়োসড়ো প্রশ্ন তুলে দিলেন চেন্নাইয়ের এক বাসিন্দা। টিকার ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ওই ব্যক্তির অভিযোগ, টিকা নেওয়ার পর তাঁর স্নায়ুরোগ দেখা দিয়েছে। চিকিৎসা পরিভাষায় যার নাম অ্যাকিউট নিউরো এনসেফ্যালোপ্যাথি। ভারতের অক্সফোর্ডের করোনা টিকা তৈরি করছে সিরাম ইনস্টিটিউট। ওই সংস্থার বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন ওই ব্যক্তি।  একটি আইনি পরিষেবা সংস্থার মাধ্যমে ওই টাকা দাবি করা হয়েছে। সিরাম ছাড়াও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর), ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া এবং অ্যাস্ট্রোজেনেকার সিইও’কে আইনি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় যে কয়টি সংস্থা ভ্যাকসিন তৈরির দৌড়ে রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকা। বেশ কয়েক দফার ট্রায়ালের পর তাদের তৈরি টিকা কোভিশিল্ড করোনা রুখতে কার্যকরী হয়েছে বলে দাবি। ভারতে কোভিশিল্ড তৈরি করছে পুনের সিরাম ইনস্টিটিউট। কোভিশিল্ডের ১০০ কোটি ডোজ তৈরি করবে সিরাম। ভারতের এখন ওই টিকার পরীক্ষামূলক ট্রায়াল চলছে। ওই আইনি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার তরফে যে চিঠি সিরামকে পাঠানো হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ১ অক্টোবর চেন্নাইয়ের ওই ব্যক্তিকে কোভিশিল্ড টিকা দেওয়া হয়। তারপরই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। আইনি চিঠিতে বলা হয়েছে, টিকা নেওয়ার পরই ওই ব্যক্তির প্রচণ্ড মাথার যন্ত্রণা শুরু হয়। তাঁকে সাতদিন হাসপাতালের আইসিইউতে কাটাতে হয়েছে। এখনও ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। ওই ব্যক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তাই ৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে বলে চিঠিতে বলা হয়েছে। ওই ব্যক্তিকে শ্রীরামচন্দ্র হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে টিকা দেওয়া হয়েছিল। ওই সংস্থার এক আধিকারিকের বিরুদ্ধেও আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আইনি চিঠিতে অবিলম্বে কোভিশিল্ডের উৎপাদন বন্ধ ও পরীক্ষা বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। তা না হলে আলাদা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ওই আইনি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা।

- Advertisement -

শনিবারই ভারতে করোনা টিকার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে পুনের সিরাম ইনস্টিটিউটের প্ল্যান্টে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংস্থার প্রধান আদর পুনাওয়ালার সঙ্গে বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে আদর জানান, অক্সফোর্ডের টিকা জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য দু’সপ্তাহের মধ্যে আবেদন করবে সিরাম। কিন্তু চেন্নাইয়ের বাসিন্দার অভিযোগের পর টিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠল।