মেয়ে-বৌমার বিয়ে দিয়ে নিঃশব্দ বিপ্লব পারুলের

1340

শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : লেখাপড়া বিশেষ হয়নি। তাঁর মুখে শোনা যায়নি বড় বড় আদর্শের বুলি। অথচ নাগরাকাটার স্কুলপাড়ার দিন আনি দিন খাই মহিলা পারুল রায় নিঃশব্দ বিপ্লব ঘটিয়েছেন। নিজের বিধবা কন্যা ও পুত্রবধূকে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়েছেন। যা শুনে পারুলদেবীকে কুর্নিশ জানিয়েছে প্রশাসন থেকে শুরু করে সমাজকল্যাণ দপ্তরের আধিকারিকরা। মালবাজারের মহকুমা শাসক শান্তনু বালা বলেন, পারুল রায়ের মতো মানুষরাই সমাজের আলো। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। জেলা সমাজকল্যাণ আধিকারিক দীনবন্ধু সাহা বলেন, ওঁকে কুর্নিশ জানাই। তাঁর এই কাজ সমাজের কাছে একটি দৃষ্টান্তমূলক বার্তা। পারুল রায়ের স্বামী পল্টু রায় পাইপমিস্ত্রি। ২০১৬ সালের অগাস্টে পাঁচ দিনের মধ্যে মৃত্যু হয় মেয়ে গীতার স্বামী জয় বিশ্বাসের ও বড় ছেলে লাল্টু রায়ের দশ বছরের সন্তানের। ২০১৮ সালে মৃত্যু হয় বিবাহিত ছোট ছেলে কাল্টুর। অকাল বিধবা মেয়ে ও বৌমার এই অবস্থা কুরে-কুরে খাচ্ছিল পারুলদেবীকে। স্থির করে ফেলেন দুজনেরই ফের বিয়ে দেবেন। সেইমতো শুরু করেন পাত্র দেখার কাজ। এ বছরের গোড়ার দিকে প্রথমে বিয়ে দেন মেয়ে গীতাকে। স্বামী সহ গীতাকে নিজেদের বাড়িতেই থাকার আলাদা সংস্থানও করে দিয়েছেন তিনি। এরপর চলতি মাসের তিন তারিখে বিয়ে দেন বৌমা মণিকে। পাত্র বিহারের বাসিন্দা। কর্মসূত্রে থাকেন গোয়াতে। সেখান থেকেই ধারদেনা করে পাত্রকে করোনা আবহে ট্রেন না থাকায় বিমানে উড়িয়ে এনে নাগরাকাটায় নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বিয়ে দেন তিনি। পারুলদেবী বলেন, মেয়ে আর ছেলের বৌকে কখনও আলাদা করে দেখিনি। ওদের গুমরে গুমরে কাঁদতে দেখে কিছুই ভালো লাগত না। ওরা যাতে ভালো থাকে সেজন্যই বিয়ে দিয়েছি। স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সহায়িকা ও এলাকার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মৌসুমি ভট্টাচার্য বলেন, পারুল অত লেখাপড়া জানেন না।  তবে ওঁকে বহু তথাকথিত শিক্ষিত মানুষের শিক্ষক বলেই মনে করি।  দ্রুত ওঁকে সংবর্ধনা দেব।