যাত্রীশেড বেদখল ময়নাগুড়িতে

299

ময়নাগুড়ি  : গত দুই দশকে ময়নাগুড়িতে জনসংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে।শহরের রাস্তার দুধারে যাত্রীশেডগুলি বেদখল হয়েছে। বহাল তবিয়তে এই শেডগুলিতে দোকান সাজিয়ে বসেছে কয়েকজন। কোথাও আবার শেডের নীচে প্রাইভেট গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়।

ময়নাগুড়ি নতুন বাজার বাস টার্মিনাসের উলটো দিকে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের আর্থিক আনুকূল্যে একটি যাত্রীশেড নির্মাণ করা হয় বেশ কয়েক বছর আগে।স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মিতু চক্রবর্তী বলেন, ‘এটা বামফ্রন্টের আমলে নির্মাণ করা হয়। যেহেতু বাসটার্মিনাসের ভিতরে কোনো যাত্রীশেড নেই সেই কারণেই এখানে এই শেডটি নির্মাণ করা হয়েছিল।কিন্তু এখানে সেভাবে বাস দাঁড়ায় না।ফলে যাত্রীরা এখানে এসে বসেন না। এই যাত্রীশেড বেদখল হয়ে গিয়েছে।

- Advertisement -

ময়নাগুড়ি পুরোনো বাজারেও বেদখল হয়েছে যাত্রীশেড।এখন দেখে বোঝার উপায় নেই যে কোথায় যাত্রীশেড ছিল। ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গিয়েছে শেডগুলি। ময়নাগুড়ি ট্রাফিক মোড়ের উপর ধূপগুড়ি বাসস্ট্যান্ডে একটি পাকা যাত্রীশেড ছিল।বেশ কয়েক বছর আগেই এই শেড ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গিয়েছে। পাকা শেডটি ধীরে ধীরে ভেঙে ফেলা হয়েছে।এদিকে ময়নাগুড়ির পুরোনো এবং নতুন এই দুটি বাজারে বর্তমানে আর কোনো ফাঁকা যাত্রীশেড নেই।ফলে গ্রীষ্ম-বর্ষায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রী সাধারণকে। নিত্যযাত্রী প্রভাত পাল বলেন, ‘স্ট্যান্ডে এসে সর্বত্র দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।ব্যবসায়ীদেরও সমস্যা হয়। কিন্তু আমাদের কিছু করার থাকে না।’ নিত্যযাত্রী মিনতি সরকার বলেন, ‘রোদ এবং বৃষ্টিতে সমস্যা হয়।’ ময়নাগুড়ি নাগরিক চেতনার সভাপতি ধীরেন্দ্র চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘গত দুই দশকে ময়নাগুড়ি শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ।সেই হিসেবে রাস্তাঘাট চওড়া হয়নি।যানজট বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে।তার উপর শহরে যাত্রীশেডগুলি বেদখল হয়েছে একের পর এক।যাত্রীশেডগুলি দখলমুক্ত করে এই সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।’ ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি ঝুলন সান্যাল বলেন, ‘এই বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

ময়নাগুড়ি ঘুমটি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক তথা ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ বিমলেন্দু চৌধুরি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে কথাবার্তা বলে যাত্রীশেড দখলমুক্ত করার পদক্ষেপ করা হবে।কারণ যাত্রীদের সমস্যা হয়।’ জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সদস্য গোবিন্দ রায় বলেন, ‘যাত্রীশেডগুলি এভাবে বেদখল হওয়ার ঘটনা দুঃখজনক।এই বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে আলোচনা করা হবে।’ ময়নাগুড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সহকারী সম্পাদক সুমিত সাহা বলেন, ‘যাত্রীশেডগুলি দখলমুক্ত করা হলে এলাকাবাসী উপকৃত হবেন।’

ছবি- দখল হয়ে যাওয়া যাত্রীশেড।

তথ্য ও ছবি – বাণীব্রত চক্রবর্তী।