লকডাউনে কাজ হারালেন পাটগোলার শ্রমিকরা

275

দেবদুলাল সাহা, হরিশ্চন্দ্রপুর: করোনা সংক্রমণ রুখতে দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। লকডাউনের জেরে পাটগোলাগুলি বন্ধ হয়ে পড়ায় কাজ হারিয়েছেন হরিশ্চন্দ্রপুরের কয়েকশো পাটগোলার শ্রমিক।

বুধবার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার বিভিন্ন এলাকার পাটগোলার শ্রমিকরা তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে রামপুর স্কুল ময়দানে পাটগোলার মালিক ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভ দেখানোর পর নিজেরাই বিক্ষোভ তুলে নেন তাঁরা।

- Advertisement -

এঁরা সকলে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র সদস্য। এদিন বিক্ষোভের পাশাপাশি তাঁরা স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এক রাশ ক্ষোভ উগরে দেন। শ্রমিকরা জানান, এই লকডাউনে যখন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো নেতা-কর্মীদের রাজ্যের গরিব মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে হরিশ্চন্দ্রপুরের নেতারা এই চরম সংকটে পাশে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, কোনও খোঁজখবরও নেননি। এই লকডাউনে আমরা কী অবস্থায় রয়েছি তার কোনো খোঁজ নেই। বর্তমানে লকডাউনের কারণে হরিশ্চন্দ্রপুরের বিভিন্ন গোলাগুলিতে কোনও কাজ চলছে না। তাই বন্ধ হয়ে পড়েছে রোজগারের রাস্তা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, পাটগোলার মালিক থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতারা তাঁদের দিকে চোখ তুলে তাকাচ্ছেন না। এই নিয়ে ক্ষোভে ফেঁটে পড়েছেন শাসক দলেরই শ্রমিক ইউনিয়নের একাংশ।

এই বিষয়ে আইএনটিটিইউসি সমর্থিত হরিশ্চন্দ্রপুর থানাকমিটির জুট শ্রমিক ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট জাকির হোসেন জানান, ‘এই থানা এলাকায় প্রায় শ’পাঁচেক জুট শ্রমিক রয়েছে। অসংগঠিত ক্ষেত্রে লকডাউনের ফলে তারা চরম অসুবিধায় পড়েছে। সরকার থেকে শুধু র‍্যাশন মিলেছে। তা দিয়ে কতদিন চলবে? বর্তমানে আমাদের রোজগার একদম নেই। পরিবারে অসুখ বিসুখ হলে চিকিৎসার খরচ জোগার করতে নাভিশ্বাস উঠছে। এই নিয়ে ব্লক প্রশাসনের কাছে সমস্যার কথা জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। দলের নেতাদের সঙ্গেও এই বিষয়ে আলোচনা করেছি। কিন্তু কারও এই বিষয়ে ভ্রুক্ষেপ নেই। এই অবস্থা চলতে থাকলে আমরা আগামীতে ধরনায় বসব। শাসকদলের নেতারাও আমাদেরকে এখন এড়িয়ে চলছেন। এতে সার্বিকভাবে দলেরই ক্ষতি হচ্ছে। এই দুরবস্থার সময় আমরা নেতৃত্বকে পাশে পাচ্ছিনা।’

যদিও এই বিষয়ে শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্বকে প্রশ্ন করা হলে মুখে কুলুপ এঁটেছেন তাঁরা। তবে শাসকদলের শ্রমিক সংগঠনের ক্ষোভ আগামীতে বড়ো ধরণের গোষ্ঠীকোন্দলের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক অভিজ্ঞমহল।

এদিকে হরিশ্চন্দ্রপুরের জুট মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি গোপাল ভগৎ বলেন, ‘আমরা আমাদের ইউনিয়নের তরফে প্রত্যেক পাটগোলার শ্রমিকদের যথাসাধ্য এককালীন অর্থ সাহায্য করেছি এবং খাদ্যসামগ্রী তুলে দিয়েছি। আগামীতেও করব।’

তবে এই প্রসঙ্গে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র জেলা কমিটির সভাপতি মানব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘হরিশ্চন্দ্রপুরের জুট শ্রমিকরা আমাদের সংগঠনের সদস্য ও সমর্থক। তাঁরা প্রত্যেকে সামাজিক সুরক্ষা যোজনা বা লেবার কার্ড থাকলে তাদের অ্যাকাউন্টে রাজ্য সরকারের তরফে এক হাজার টাকা ঢুকবে। যদি কোনও কার্ড না থাকে তবে প্রচেষ্টা প্রকল্পে আবেদন করলেই ১০০০ টাকা মাসে পাবেন তাঁরা। তবুও তারা যাতে সরকারি সুবিধা পায় তা সংগঠনের তরফে খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।’

হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের বিডিও অনির্বান বসু জানান, ‘হরিশ্চন্দ্রপুরের জুট শ্রমিকদের সমস্যার বিষয়টি দেখা হচ্ছে। লকডাউনে তাঁদেরকে সরকারি ত্রাণ দেওয়া হয়েছে।’