শয্যা থেকে পড়ে মাথায় আঘাত লেগে মৃত্যু করোনা রোগীর, অভিযোগ ঘিরে রায়গঞ্জ মেডিকেলে শোরগোল

99
ফাইল ছবি

রায়গঞ্জ: শয্যা থেকে পড়ে মাথায় আঘাত লেগে মৃত্যু হল এক করোনা আক্রান্ত রোগীনির। শনিবার এই অভিযোগে শোরগোল পড়ে যায় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। আত্মীয় শরিফুল হকের অভিযোগ, ওই রোগীনি শয্যা থেকে পড়ে গেলে মাথার সঙ্গে অক্সিজেন সিলিন্ডারের ধাক্কা লাগে। সেখানেই প্রচুর রক্তপাত হয় ওই রোগীর। দীর্ঘ সময় এই অবস্থায় পড়ে থাকলেও তাঁর সুশ্রুষা করার মতো কেউ ছিল না। পরে তাঁদের জানানো হয় করোনা আক্রান্ত হয়েই রোগীনির মৃত্যু হয়েছে। যদিও মৃতদেহের শরীরে রক্ত দেখেই রোগীনির পরিবার বিষয়টি নিয়ে সরব হয়। আর এই অভিযোগ ঘিরে মেডিকেল কলেজের পরিষেবা নিয়ে বড়সর প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছে মৃতার পরিবার।মন্তব্য করতে চাননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

করোনা আক্রান্ত ওই রোগিনীর বাড়ি করণদিঘী থানার আলতাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাছোল গ্রামে। সালেমা বিবি (৩৬) নামে ওই রোগীনিকে প্রবল জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চলতি মাসের ৪ তারিখে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের আইসোলেশন বিভাগে ভর্তি করা হয় তাঁকে। পরে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে তাঁর। এদিন সকালে তাঁকে কোভিড ওয়ার্ডের সিসিইউ বিভাগে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই এই ঘটনা ঘটে যায়। বিষয়টি নিয়ে শনিবার সকালে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক ভবনে অভিযোগ জানাতে গেলে আধিকারিকদের না পেয়ে সেখান থেকে ফিরে আসতে হয় মৃতার পরিজনদের। সোমবার তারা ফের কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।

- Advertisement -

যদিও এই ঘটনা নিয়ে কোনও মন্তব্যই করতে চায়নি রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি প্রিয়ঙ্কর রায় ও নোডাল অফিসার বিপ্লব হালদার।  বিষয়টি নিয়ে আদৌ কোনও তদন্ত হবে কিনা সেটাও এখন অন্ধকারে। এদিন মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দেখা যায় ওই রোগিনীর মাথায়, মুখে, গলায় চোট রয়েছে রক্তের দাগ ও রয়েছে। তার জখমের চিহ্ন দেখেই পরিবারের লোকেদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। মৃতার পরিবারের দাবি, হাসপাতালের শয্যা থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে পড়ে যান ওই রোগীনি। মাথার মধ্যে চোট লাগায় দীর্ঘ সময় মেঝেতেই পড়েছিলেন তিনি। রোগীর কাছে থাকা ফোনে সাড়া না পেয়ে পাশের বেডের এক মহিলাকে ফোন করলে তিনিই পড়ে যাওয়ার খবর পরিবারকে জানান। যদিও প্রাথমকিভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের এই বিষয়ে জানাতে গেলে তাঁরা কিছুই হয়নি বলে এড়িয়ে যান। এদিন সকালে নার্সদের তরফ থেকে জানানো হয় রোগীনির করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।