করোনা পরীক্ষার প্রস্তুতির মধ্যেই হাসপাতালে মৃত্যু রোগীর

236

বর্ধমান: করোনা পরীক্ষার কাগজপত্র তৈরি চলাকালীন হাসপাতালে মারা গেলেন জ্বর, সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়া এক রোগী। ঘটনা জানাজানি হতেই সোমবার দুপুর থেকে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে। মৃতের নাম প্রবীরকুমার দাস (৪৭)। তাঁর বাড়ি জামালপুর থানার পাঁচড়া পঞ্চায়েতের চৌবেড়িয়া গ্রামে। এদিন দুপুরে জামালপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদিও দাবি করেছেন, হার্টফেল করার কারণেই ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

মৃতের স্ত্রী সন্ধ্যা দাস এদিন বেলায় তাঁর স্বামীকে নিয়ে জামালপুর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। তাঁর সামনেই মারা যান প্রবীর দাস। সন্ধ্যাদেবী জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী সেলুন চালাতেন। গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি জ্বর, সর্দিকাশিতে ভুগছিলেন। এদিন রোগযন্ত্রণা ও শ্বাসকষ্ট বাড়ায় তিনি তাঁর স্বামীকে নিয়ে জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছান।

- Advertisement -

কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত তাঁর স্বামীর চিকিৎসা শুরু করেন। তাঁকে গ্যাস অর্থাৎ নেবুলাইজার প্রয়োগ করা হয়। সন্ধ্যাদেবী বলেন, চিকিৎসা শুরুর পর হাসপাতালের ডাক্তারবাবু তাঁর স্বামীর করোনা টেস্ট করানোর কথা বলেন। করোনা টেস্টের জন্য ফর্মফিলাপও হয়ে যায়। তারই মধ্যে হার্টফেল করে স্বামী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। চার ঘণ্টা পর মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়।

জামালপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিএমওএইচ চিকিৎসক আনন্দমোহন গড়াই বলেন, পরিবারের লোকজন প্রবীর দাসকে হাসপাতালে আনার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর ট্রিটমেন্ট শুরু হয়। নেবুলাইজার প্রয়োগ করা হয়। তারই মধ্যে হার্টফেল করে ওই রোগী মারা যান। বিএমওএইচ বলেন, মনে হচ্ছে ওই রোগীর হার্টের প্রবলেম ছিল। একই সঙ্গে বিএমওএইচ দাবি করেন, এখন হাসপাতালে আসা সব রোগীর করোনা পরীক্ষা করোনা হচ্ছে। সেইমত এদিন প্রবীর দাসেরও করোনা পরীক্ষা কাগজপত্র তৈরি করা হচ্ছিল।