কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে রোগী উধাও!

218

কলকাতা: বাংলায় একটা প্রবাদ আছে “কুকুরের লেজ কোনোদিন সোজা করা যায় না।” আর সেই প্রবাদ বাক্যকে পুনরায় সত্যি প্রমাণ করল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। বিশেষ করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।দিনের পর দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনিয়ম ও অব্যবস্থা নিয়ে যখন রাজ্য জুড়ে তোলপাড় চলছে , ঠিক সেই সময় সেখানকার প্রিন্সিপালকে বদল করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। আর সেই প্রিন্সিপালের বদলের মাত্র ৪ দিনের মাথায় ফের দেখা দিল এক চরম অব্যবস্থা।

মেডিকেল কলেজের গ্রীন বিল্ডিংয়ে ১১০ নম্বর বেডে ভর্তি ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ার বাসিন্দা ঝর্ণা মন্ডল (৪৮)। ঝর্ণা দেবীর স্বামী ও পুত্র গত ২৮ জুলাই থেকেই গ্রীন বিল্ডিংয়ের সামনে থাকতে শুরু করেছেন। প্রতিদিনই তারা চারবেলা ঝর্ণা দেবীর জন্য খাবার দিয়ে আসছেন। এদিনও তারা দুপুরের খাবার পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। বেলা দেড়টার সময় তার স্বামী ও পুত্র যখন চিকিৎসকের কাছে জানতে চান তাদের রোগীর অবস্থা কিরকম। চিকিৎসক তাকে জানিয়ে দেন পাঁচ মিনিট আগে তিনি দেখে এসেছেন যে ঝর্ণাদেবী ভালই আছেন। আর চিকিৎসকের সঙ্গে যখন এই কথাবার্তা চলছে ঠিক সেই সময়ই ওয়ার্ড অফিস থেকে ঝর্ণাদেবীর ছেলের মোবাইলে ফোন আসে যে তার মা গতকাল বিকেলে মারা গেছেন। ঝর্ণাদেবীর ছেলের মুখে এই কথা শুনে হতচকিত চিকিৎসকও। তিনি তড়িঘড়ি ঝর্ণাদেবীর ছেলেকে নিয়ে গিয়ে সমস্ত বিল্ডিং ঘুরে দেখেন। কিন্তু ঝর্ণাদেবীকে কোথাও দেখতে পাননি। সেখানে রয়েছে অন্য রুগী। আর তা দেখে ঝর্ণা দেবীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হতবাক হয়ে যান চিকিৎসকও।

- Advertisement -

এদিন ঝর্ণাদেবীর স্বামী ও পুত্র জানান যে, সেখানে চিকিৎসা হচ্ছে না তা তারা জানতে পেরেছিলেন। আর সেই কারণে ঝর্ণা দেবীকে নার্সিংহোমে ভর্তি করার ব্যবস্থাও করছেন। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে সেখান থেকে ছাড়তে না চাইলেও ১০০০০ টাকার বিনিময়ে তার মাকে অন্যত্র বদলি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন হাসপাতালে এক কর্মী বলেও জানান তার ছেলে। তা নিয়েই শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য।

এদিন বেলা দেড়টা থেকে সমস্ত দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ঝর্ণা দেবীর স্বামী ও পুত্র কোন কোন সদুত্তর যেমন পাননি, তেমনি ঝর্ণাদেবী বা তার মৃতদেহ কোথায়, তার হদিস কেউ দিতে পারেননি। শুধু তাই নয়, ঝর্ণা দেবীর স্বামী বা পুত্রকে অভিযোগ জানানোর জন্য হাসপাতাল সুপারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।