কোভিড হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করোনা আক্রান্ত রোগীর

ফাইল ছবি

রায়গঞ্জ: উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের কোভিড হাসপাতাল থেকে এক করোনা পজিটিভ রোগী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেন। গতকাল রাতভর চলা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়ায় কোভিড হাসপাতাল ক্যাম্পাসে।

করোনা আক্রান্ত ওই রোগী প্রতিদিন রাতে মদ খাওয়ার বায়না করতেন বলে অভিযোগ। না দিলে যে করেই হোক কোভিড হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাবেন, এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন করোনা আক্রান্ত ওই রোগী। কোভিড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই রোগীকে নেশাদ্রব্য দিতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে গেলে কোনও নেশা করা যাবে না।

- Advertisement -

গতকাল গভীর রাতে লুকিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন ওই রোগী। তিনতলা থেকে ঝাঁপ দিতে না পেরে বাথরুমের রেলিংয়ে বসেছিলেন তিনি। এদিকে বেডে রোগী না থাকায় হুলুস্থূলু কান্ড বেঁধে যায় কোভিদ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে। খোঁজ শুরু হতেই দেখা যায় বাথরুমের রেলিংয়ে বসে রয়েছেন করোনা আক্রান্ত ওই রোগী। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে কোভিড হাসপাতালের বেডে নিয়ে আসা হয়। সমস্ত ঘটনা জানানো হয় স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তাদের।

জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধানের নির্দেশে বন্ডে সই করে ওই করোনা আক্রান্ত রোগীকে ছাড়া হয়। বন্ডের লেখা রয়েছে, ১৪ দিন বাড়ি থেকে বেরোতে পারবেন না তিনি। স্বাস্থ্য দপ্তরের দেওয়া সমস্ত ওষুধ সে খাবে। কিন্তু তার সঙ্গে তাঁর মদও চাই। সেই কারণেই ডিআরবি করে ছুটি নিয়েছেন। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান বলেন, কেউ বন্ডে সই করে বাড়ি ফিরতে চাইলে আমরা ছুটি দিতে বাধ্য। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।

কোভিড হাসপাতালের সুপারেনটেনডেন্ট দিলীপকুমার গুপ্তা বলেন, সমস্ত বিষয় জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে জানানো হয়েছিল। স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশেই ওই রোগীকে বন্ড করে ছুটি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২৩ তারিখে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় রায়গঞ্জ শহরের মোহনবাটি বাসিন্দা মায়ারানি লাহার (বণিক)। মাকে সেবা করতে গিয়েই করোনা সংক্রামিত হন ওই ব্যক্তি। চার দিন ধরে কোভিড হাসপাতালে করোনা পজিটিভ অবস্থায় ভর্তি ছিলেন তিনি।

মদ খাওয়ার জন্য কোভিড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ওই রোগী। গতকাল গভীর রাতে কোভিড হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে ধরে ফেলেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এদিন বন্ডে সই করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। যদিও চিকিৎসকদের বক্তব্য, ওই রোগীর অবস্থা ক্রমশ সংকটজনক হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত করোনা থেকে মুক্ত হননি তিনি। ফলে এলাকায় ঘোরাঘুরি করলে ওই ব্যক্তির দ্বারা সংক্রামিত হতে পারে এলাকার বাসিন্দারা।