সামনে ভোট, পাট্টার নথি নিয়ে বাড়ি বাড়ি গেলেন বিধায়ক

191

হলদিবাড়ি: বিধানসভা নির্বাচনের আগে শহুরে উদ্বাস্তুদের মন জয় করতে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাস্তু জমির পাট্টা বিলি করলেন মেখলিগঞ্জের বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান। এদিন তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের হলদিবাড়ির রেভিনিউ অফিসার ওয়াদুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে হলদিবাড়ি শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালাকোম্পানী উদ্বাস্তু কলোনির বাসিন্দাদের বাড়ির দরজায় গিয়ে পাট্টার নথি তুলে দেন। ওই এলাকায় বসতি গড়ে উঠার প্রায় ৭০ বছর পর নিজের বাড়ির ভিটের জমির অধিকার পেয়ে খুশি বাসিন্দারা। তাঁরা রাজ্য সরকারের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

        হলদিবাড়ি পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, হলদিবাড়ি শহরে ১১টি ওয়ার্ডের মধ্যে মোট ৭টি উদ্বাস্তু কলোনি রয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে এই কলোনিগুলিতে মানুষ বসবাস করলেও তাঁদের বসতবাড়ির কোন বৈধ কাগজপত্র ছিল না।বাম আমল থেকে  জমির পাট্টার জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে  চক্কর কেটেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।রাজ্যে তৃণমূল সরকার আসার পর থেকে হলদিবাড়ি ব্লকের ভূমিহীন দুস্থদের জমির পাট্টা দিতে শুরু করে। বর্তমান সরকারের আমলে শহরের কলোনিগুলো থেকে মোট ৩৭২টি পরিবার জমির পাট্টা পেতে আবেদন করেন। প্রথম দফায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৭সালে কোচবিহারের চকচকায় আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকের অনুষ্ঠান থেকে হলদিবাড়ি শহরের উদ্বাস্তু কলোনিতে বসবাসরত ৪০টি পরিবারের হাতে জমির পাট্টা তুলে দেন।এর পর থেকে পর্যায়ক্রমে এখন পর্যন্ত ১৭২ জনকে জমির পাট্টা প্রদান করা সম্ভব হয়েছে। বাকিগুলিও প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।স্থানীয় উদ্বাস্তু অর্চনা চক্রবর্তী বলেন, ‘এদিন বাড়ির দরজা খুলতেই দেখি জমির পাট্টা হাতে স্থানীয় বিধায়ক দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। ভাবতেই পারিনি এতো সহজে বাড়িতে বসেই জমির বৈধ কাগজপত্র হাতে পাবো’।হলদিবাড়ি ব্লক উদ্বাস্তু কমিটির সম্পাদক অমিতাভ বিশ্বাস বলেন, ‘হলদিবাড়ি পুর এলাকায় এখনো ১১১ জনের পাট্টা পাওয়া বাকি আছে।তাঁরা যাতে দ্রুত এই পাট্টা পায় সেই বিষয়ে উদ্বাস্তু ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তরের কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’ মেখলিগঞ্জের বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান বলেন, ‘মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজ্যের বসবাসকারী উৎবাস্তুদের জমির পাট্টা বিলি করছে উদবাস্তু পুনর্বাসন দপ্তর।ভূমিহীন হলদিবাড়ি শহরের তালা কোম্পানী কলোনিতে বসবাসরত মানুষদের দুয়ারে গিয়ে মোট ৪৯টি পরিবারের জমির পাট্টা তুলে দেওয়া হয়েছে।’

- Advertisement -