মেলেনি পাকা সেতু, ক্ষোভে ফুঁসছেন সাবেক ছিটমহলবাসী সহ স্থানীয়দের একাংশ

252

গৌতম সরকার, মেখলিগঞ্জ: প্রতিশ্রুতির দীর্ঘদিন পরও ধরলা নদীর উপর পাকা সেতু তৈরির বিষয়ে এখনও অবধি তেমন কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি। যা নিয়ে হতাশ মেখলিগঞ্জ ব্লকের চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি সাবেক ছিটমহলবাসীদের একাংশ। তবে বেশি মন খারাপ পানিশালা এলাকায় থাকা ফ্ল্যাটবাড়িতে বসবাসকারী নব্যভারতীয়দের অনেকের। কারণ তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁরা আশায় ছিলেন ফ্ল্যাট বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরুর আগেই ধরলা নদীতে পাকা সেতু তৈরি হবে। কিন্তু তাঁরা ফ্ল্যাট বাড়ি তৈরির প্রায় ছ’মাস পরেও পাকা সেতু তৈরির কোনওরকম নমুনা চোখে পড়ছে না। তাঁদের স্থায়ী পুনর্বাসন দেওয়ার আগে অবধি পাকা সেতু তৈরির বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন সেতু তৈরির দাবির কথাটাই কোনও মহলে গুরুত্ব পাচ্ছে না বলে অভিযোগ। তবে এনিয়ে প্রকাশ্যে তাঁরা আর কিছু বলতে চাইছেন না।

তাঁদের বক্তব্য, গত কয়েক বছর থেকে সেতুর দাবির কথা তাঁরা সকলের কাছেই পৌঁছে দিয়ে আসছেন। কিন্তু কেউ কথা রাখছেন না। তাই এসব নিয়ে তাঁদের কিছু বলার আর ইচ্ছে নেই। অতুল রায়, তাপস রায় প্রমুখ বাসিন্দা জানান, এখানে পাকা সেতুর বিষয়ে আশ্বাস মিললেও কাজ না হওয়ায় হতাশ তাঁরা। সকলেরই বক্তব্য, দেবীকলোনির পিছন দিকে ধরলা নদীতে স্থায়ী পাকা সেতু তৈরি করা হলে সেতুর দু’পাশে বসবাসকারী মানুষের যাতায়াতের ব্যাপক সুবিধা হবে। সেতু তৈরি হলে সেতুর ওপারে থাকা মানুষজন সহজেই দেবীকলোনি হয়ে নিকটবর্তী চ্যাংরাবান্ধা হাসপাতাল, বাজার, স্কুল-কলেজ বিভিন্ন জায়গায় যেতে পারবেন। বর্তমানে তাঁদের ৮-৯ কিমি ঘুরপথে চলতে হচ্ছে।

- Advertisement -

কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সাবেক ছিটমহলবাসী এবং সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের তরফে ধরলায় পাকা সেতুর দাবির কথা তোলার পর প্রশাসনের তরফে ওই এলাকা পরিদর্শনও করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর এ নিয়ে আর তেমন কোনও উদ্যোগ নজরে আসছে না বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার বাসিন্দারা।

যদিও এখানে পাকা সেতুর দাবির বিষয়ে অনেকদিন আগেই রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে মেখলিগঞ্জ ব্লক প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। তবে এবিষয়ে মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিডিও সাঙ্গে ইউডেন ভুটিয়া কোনও মন্তব্য করেননি।