ভিনরাজ্যে ফসল পাঠাতে সমস্যা, ময়নাগুড়ির বাদামচাষিরা বিপাকে

220

অভিরূপ দে, ময়নাগুড়ি : লকডাউনের জন্য ভিনরাজ্যে বাদামের চাহিদা না থাকায় বিপাকে পড়েছেন ময়নাগুড়ির বাদামচাষিরা। এবছর এই অঞ্চলে অনেক বাদাম উৎপাদন হলেও লকডাউনে পাইকাররা অনেকদিন এলাকায় আসতে পারেননি। তাই এবার ভিনরাজ্যে সেভাবে বাদাম পাঠানো যায়নি। ময়নাগুড়ি ব্লকে তিস্তার চর লাগোয়া এলাকায় উত্পাদিত বাদাম অসম, বিহার, উত্তরপ্রদেশ সহ বিভিন্ন রাজ্যে যায়। তবে এবছর ছবিটা আলাদা।

সাধারণত বেলে, দোআঁশ মাটি অথবা নদীর চর অঞ্চলে বাদাম চাষ ভালো হয়। নদীর চর অঞ্চলে নরম ও ঝরঝরে মাটিতে বাদাম গাছের শেকড় সহজেই প্রবেশ করতে পারে। এই ধরনের মাটিতে চাষিদের জমি কর্ষণ করতেও কম পরিশ্রম হয়। তাছাড়া বাদাম চাষের জন্য এই অঞ্চলের আবহাওয়া অনুকূল। তাই গত কয়েক বছরে এই এলাকায় বাদাম চাষে আগ্রহ বেড়েছে। তিস্তার চরে উৎপাদিত বাদাম জমি থেকে তোলার পর মহিলারা সেগুলি ঝাড়াই করে বস্তাবন্দি করেন। এরপর সেই বাদাম পাইকারদের মাধ্যমে ভিনরাজ্যে যায়। গত বছর প্রতি কেজি বাদামের দাম ছিল ৪০-৫০ টাকা। তবে চলতি বছর বাদামের চাহিদা কম থাকায় দাম অনেকটাই কমেছে। এবছর পাইকারি হারে প্রতি কেজি বাদাম মিলছে ২৫-৩০ টাকায়। ময়নাগুড়ির তিস্তা চর এলাকার বাদাম চাষি মিঠুন দাস বলেন, চলতি বছর বাদামের চাহিদা অনেকটাই কম। ভিনরাজ্যে বাদাম তেমন না যাওয়ার কারণে দাম মিলছে না। আরেক চাষি কালু দাস বলেন, কয়েকদিন হল বাদাম পাইকারদের দেখা মিলতে শুরু করেছে। আগামীদিনে কী হয়, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছেন চাষিরা। ব্যবসায়ী বাপি সরকার বলেন, বাদামের প্রচুর ফলন হলেও চাহিদা নেই। তবে গত সপ্তাহ থেকে কিছু কিছু জায়গায় বাদাম পাঠানো শুরু হয়েছে।

- Advertisement -

ময়নাগুড়ি ব্লক কৃষি আধিকারিক কৃষ্ণা রায় বলেন, এই চাষে ক্ষতির সম্ভাবনা কম থাকে। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে সঠিকভাবে বাদাম চাষ করলে ভালো লাভের সম্ভাবনা থাকে। তবে লকডাউনের জন্য চাহিদা কিছুটা কমে গিয়েছে। ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ বিমলেন্দু চৌধুরী জানান, ভিনরাজ্যের পাইকাররা ধীরে ধীরে আসতে শুরু করেছেন। আশা করা হচ্ছে চাষিরা তাঁদের ফসলের দাম পাবেন।