বাড়ির পুকুরে মুক্তো চাষে নতুন দিশা দেখাচ্ছেন বেলাকোবার অলিনজার

487

বেলাকোবা: গলার হার হোক কিংবা আংটি। মুক্তো মানেই বাড়তি আকর্ষণ। সেই মুক্তোই এবার আপনার হাতের নাগালে। জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের বেলাকোবার শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সোনারবাড়ির বাসিন্দা অলিনজার গুহ এক বিটেক ইঞ্জিনিয়ার। তাঁর বাড়ির পুকুরেই তৈরি হচ্ছে রংবেরংয়ের মুক্তো। কিন্তু, পুকুরে কীভাবে মুক্তো চাষ সম্ভব? পদ্ধতি পুরোনো। যদিও ব্যবসায়ীক ভাবনা থেকে মুক্ত চাষের নতুন দিশা দেখাচ্ছেন অলিনজার গুহ।

গত ৪ বছর ধরে গবেষণা চালান অলিনজার। এরপর বাড়ির পুকুরেই ২০ হাজার মুক্তোর চাষ শুরু করেছেন, পোষাকি নাম ফ্রেস ওয়াটার পার্ল ফার্মিং। বাজারে কিনতে পাওয়া যায় ঝিনুক। নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ঝিনুকের ভিতর নিউক্লিয়াস প্রতিস্থাপন করতে হয়। এরপরই শুরু মুক্তো তৈরির প্রক্রিয়া। তদারকি বলতে নির্দিষ্ট সময় অন্তর খাবার দেওয়া জলের পরিমাণ ঠিক ও জলের অক্সিজেন, অ্যামোনিয়া, পিএইচ লক্ষ্য রাখা।

- Advertisement -

বাড়ির পুকুরে মুক্তো চাষে নতুন দিশা দেখাচ্ছেন বেলাকোবার অলিনজার| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

অলিনজার গুহ জানান, এক একটি ঝিনুক থেকে মুক্ত তৈরি হতে সময় লাগে প্রায় ২ বছর। প্রতিবছর বিদেশ থেকে ভারতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার মুক্তো আমদানি হয়। উদ্যোক্তারা জানান, এই বিপুল বাজার ধরতে পারলে আঞ্চলিক ও জাতীয় স্তরে কর্মসংস্থানের বিকল্প পথ তৈরি করা সম্ভব। একক, সেল্ফ-হেল্প গ্রুপ বা কো-অপারেটিভ ভিত্তিতে চাষ করা যেতে পারে। তবে শুধু মুক্তই নয়, একই সঙ্গে রুই, কাতলার মতো মাছ চাষও সম্ভব।

অলিনজার গুহ জানান, পুকুরের আয়তন অনুযায়ী খরচ ধার্য হয়। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এই পদ্ধতিতেই চাষ হচ্ছে মুক্তো। সেই তালিকায় এবার পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বড় আকারে মুক্তোর চাষ উত্তরবঙ্গে। চাষে উৎসুকদের প্রতি সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। লাভদায়ক এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার। তাই চা-শিল্পের পাশাপাশি এখন উত্তরবঙ্গের আর এক সম্ভাবনাময় শিল্প হতে চলেছে মুক্তো চাষ। দিশা দেখাচ্ছেন বেলাকোবার অলিনজার গুহ।