টিউবওয়েল ডুবেছে, দূষিত জল পান করছেন দুর্গতরা

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ : একদিকে বন্যার থাবা অন্যদিকে পানীয় জলের সমস্যা। গ্রামীণ এলাকার বেশিরভাগ পানীয় জলের কল, টিউবওয়েল নাগর নদীর জলের তলায় চলে গিয়েছে। যার ফলে রায়গঞ্জ ব্লকের শীতগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত, জগদীশপুর গ্রাম পঞ্চায়েত, বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েত, গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জল নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় দুর্গতরা অপরিশোধিত জল পান করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকার মানুষের অভিযোগ, অপরিস্রুত জলপান করায় নানারকম পেটের অসুখ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা ছড়িয়েছে। আরও অভিযোগ, ব্লক ও জেলা প্রশাসনের তরফে পরিস্রুত পানীয় জলের পাউচ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখনও পর্যন্ত তা হয়নি। অগত্যা বানভাসি মানুষদের জল ফুটিয়ে কিংবা হ্যালোজেন ট্যাবলেট ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বন্যার জলে সব ভেসে গিয়েছে। জল গরম করার উনুন কোথায়!

- Advertisement -

রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি মানস ঘোষ বলেন, এক লক্ষ পানীয় জলের পাউচ জেলা প্রশাসনের কাছে চাওয়া হয়েছে। পাউচ পেলেই গ্রামবাসীদের দেওয়া হবে। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা এলাকায় এলাকায় ওই পাউচ পৌঁছে দেবেন। গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সীমা মণ্ডল বলেন, ১২টি গ্রাম জলের তলায় রয়েছে। পানীয় জল নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। একই কথা বললেন বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কাদের আলি, শীতগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কণিকা নাগবংশী কোড়া। অপরিশোধিত জল যাতে কেউ না পান করেন, সেইজন্য ব্লক প্রশাসনের তরফে প্রচার চালানো হচ্ছে। এর ফলে পেটের রোগ দেখা দেবে।

ব্লক প্রশাসনের তরফে মঙ্গলবার দুপুর থেকে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর সহ একাধিক দপ্তর সঙ্গে বৈঠক করছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মাধ্যমে জলের পাউচ দেওয়ার মেশিন আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানান, পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি মানস ঘোষ। স্বাস্থ্যকর্মীরা হ্যালোজেন ট্যাবলেট বিলি করছেন বন্যাদুর্গত এলাকায়। তবে দুর্গতদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টি কমে রোদ উঠলেও এখনও রায়গঞ্জ মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। রায়গঞ্জের বিডিও রাজু লামা বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিলির জন্য মিটিং করা হচ্ছে। সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করা হচ্ছে। তবে জলবন্দির সংখ্যা কত তা অজানা জেলা প্রশাসনের কাছে।

এদিকে, শীতগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। জলে ডুবে গেছে বিঘার পর বিঘা আবাদি জমি-বাড়ি। কেউ রাস্তায়, কেউ আবার প্রাথমিক স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত পঞ্চায়েতের মহিগ্রাম, দক্ষিণ মহিগ্রাম, কৃষ্ণমুড়ি, শিয়ালতোর সহ বিস্তীর্ণ এলাকা নাগর নদীর জলে জলমগ্ন। রাস্তার দুপাশে মাইলের পর মাইল এলাকা জলের নীচে চলে গিয়েছে। চারদিন ধরে ক্ষুধার্ত অবস্থায় রয়েছে বানভাসি মানুষেরা। এখনও পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছায়নি। স্থানীয় পঞ্চায়েতের সদস্য থেকে শুরু করে প্রধান কারোরই দেখা নেই। এলাকায় রীতিমতো ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।