প্রতিমা জলে পড়তেই কাঠামো তুলতে ঝাঁপান সন্দীপরা

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : কৃষ্ণ, সন্দীপ, বিমান, পার্থ, বিপুলদের কারও পরনে হাফ প্যান্ট, কারও বা ফুল প্যান্ট। কিন্তু প্রত্যেকের মাথার উপরে গামছা রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর থেকেই জলপাইগুড়ি শহরের তিস্তা এবং করলা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে ওঁরা। জলপাইগুড়ি শহরের পারিবারিক এবং সর্বজনীন পুজো কমিটিগুলির প্রতিমা তিস্তা এবং করলাতে বিসর্জন দেওয়া হয়।

কৃষ্ণ, সন্দীপদের লক্ষ্য প্রতিমার কাঠের কাঠামোগুলি তুলে আনা। সেগুলিকে বিক্রি করা। দুর্গার কাঠামোই মা কালীর প্রতিমার কাঠামো হিসাবে ব্যবহৃত হবে। কাঠামোতে ব্যবহৃত বাঁশের টুকরো ফুল বাগানে বেড়া দেওয়ার জন্য অনেকেই ব্যবহার করেন। তাই নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের সঙ্গে সঙ্গেই ওঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েন। করলা এবং তিস্তাতে বর্তমানে জলোচ্ছ্বাস না থাকলেও জলের গভীরতা মোটেই কম নয়। বিপদের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিমার কাঠামো সংগ্রহের অভিযানে ওঁরা নামেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মৃৎশিল্পী জানান, কাঠামো তৈরি করা যেমন সময়সাপেক্ষ তেমনি ব্যয়সাপেক্ষও। দুর্গার কাঠামো সহজেই পেয়ে যাওয়ায় কাজের সুবিধা হয়। তুলনামূলকভাবে দুর্গার কাঠামো তাঁরা কম দামে পান। এটা ব্যবসায়িক দিক থেকে তাঁদের লাভ।

- Advertisement -

কৃষ্ণ দাস জানান, বাবুঘাটে ১৫টি প্রতিমা তিনি ঘাটের ধারে এনে রেখেছেন। প্রতিমাগুলির কাঠামো বিক্রি করবেন। সন্দীপ জানান, যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে হয়। তবে আর্থিক সংকটের মুখে এই রোজগারই বা কম কীসের। কৃষ্ণ, সন্দীপরা প্রত্যেকেই দক্ষ সাঁতারু। করলা নদীতে দুটি নৌকা মজুত করা হয়েছিল। এই নৌকা দুটিতে সিভিল ডিফেন্সের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকরা ছিলেন। বিসর্জনের সময়ে সতর্ক দৃষ্টি রেখেছিলেন তাঁরা। বাবুঘাটে করলা নদীর পাড়ে বিসর্জন দেখতে ভিড় উপচে পড়েছিল মঙ্গলবার।