রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি, ১৪ জুলাই : নদীর চর কিনে সেখানে বসতি গড়ে এখন বিপাকে পড়েছেন বালাসন নদীসংলগ্ন বানিয়াখাড়ির ত্রিপালিজোত, প্রমথনগর সহ একাধিক এলাকার বাসিন্দারা। প্রত্যেকটি বাড়িতেই নদীর জল ঢুকেছে। কাজকর্মে যাওয়া দূরের কথা, বাসিন্দারা পরিবার নিয়ে কার্যত ঘরবন্দি হয়ে রয়েছেন। রান্নাঘরেও জল ঢুকে যাওয়ায় রান্না- খাওয়া লাটে উঠেছে। কবে বৃষ্টি কমবে, কবে জল নামবে সেই আশায় রয়েছেন বাসিন্দারা।

প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে, কাদের মদতে এভাবে নদীর চরে বসতি তৈরি হয়েছে? মাটিগাড়া ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি (২) খগেশ্বর রায় বলেন, এই জায়গাগুলি আমরা ক্ষমতায় আসার আগেই বিক্রি হয়েছিল। বাম আমলে কিছু জমি মাফিয়াই এই কাজ করেছে। এখন মানুষগুলি বিপদের মধ্যে বসবাস করছে। আমরা দলের তরফে তাঁদের যতটা সম্ভব পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু তৃণমূলেরই একাংশ এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই নদীর চর বিক্রি থেকে তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের একাংশ কাটমানি পেয়েছেন। মাটিগাড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি গৌরী দে বলেন, জমি মাফিয়ারা নদীর চর বিক্রি করেছেন এটা ঠিক। কিন্তু সেখানে বসবাসকারী মানুষগুলির তো দোষ নেই। আমি এলাকা পরিদর্শন করে এসেছি। ওই এলাকার জল বের করার জন্য আর্থমুভার নামাতে বলা হয়েছে।

মাটিগাড়া ব্লকের পাথরঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে বালাসন নদীর তীরে গড়ে উঠেছে বানিয়াখাড়ি ত্রিপালিজোত, প্রমথনগর, লোকনাথ কলোনির মতো এক-একটি পাড়া। এখানকার বেশিরভাগ বাড়ির পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারাও বালাসন নদীতে পাথর ভাঙার কাজ করে সংসার চালান। নদীতে জল বেড়ে যাওয়ায় পাথর ভাঙার কাজও বন্ধ। পুরো এলাকাই জল থইথই। এই অবস্থায় নাওয়া-খাওয়া ভুলে জল সরার অপেক্ষায় আছেন বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা জগদীশ বর্মন, শিবু বর্মন, দীপালি বর্মন, পারুল দেবনাথ, বিজলী বর্মন বলেন, চার-পাঁচদিন ধরে এই অবস্থা হয়ে রয়েছে। উঠোনে জল, ঘরে জল। কত পোকামাকড় ঘুরছে। বাচ্চাদের নিয়ে চৌকির উপরেই বসে রয়েছি। কেউ কেউ চৌকির উপরে স্টোভ নিয়ে রান্না করেছেন। কিন্তু কেরোসিন তেলও শেষ হয়ে গিয়েছে। ফলে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ অনেক পরিবারেরই।

ভারতী রায় নামে এক গৃহবধূ বলেন, ১৮-২০ হাজার টাকা কাঠা হিসাবে জমি কিনেছিলাম। জমির কাগজপত্র বলতে আমাদের কাছে কিছুই নেই। কয়েকজন লোক আমাদের এভাবে নদীর চরে বসিয়ে পালিয়ে গিয়েছে। জগদীশ বর্মন বলেন, ১৮ হাজার টাকা হিসাবে দুই কাঠা জমি কিনেছিলাম। এখন প্রতি বছরই পুরো বর্ষায় কয়েক মাস আমাদের এভাবে জলবন্দি হয়ে থাকতে হয়। প্রশাসনও কিছু ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কীভাবে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাব বুঝতে পারছি না। আবার লোকনাথ কলোনিতে জল ওঠায় বাড়িঘর ছেড়ে আত্মীয়ে বাড়ি চলে গিয়েছেন উৎপলা বর্মন। অভিযোগ উঠছে, তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতাদের একাংশ নদীর চর বিক্রি থেকে সুবিধা পেয়েছেন। অনেকেই কাটমানি পেয়েছেন। এখন সবাই হাত তুলে দিয়েছেন। তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য কাটমানির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।