চেল নদী পেরোতে টাকা দিতে হচ্ছে, প্রশ্নের মুখে পঞ্চায়েত

514

কৌশিক দাস, ক্রান্তি : চেল নদীতে সেতুর দাবি পূরণ হয়নি।এখন আবার নদীর উপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে টাকা দিতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে। প্রতিবার পারাপার করতে জনপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা করে দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসীরা পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে এভাবে পারাপারের জন্য টাকা নেওয়া বেআইনি।

ভরা বর্ষায় চেল নদীতে প্রচুর জল থাকে। তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে খেয়াঘাট নিলাম করা হয়। এবার খেয়াঘাট নিলামে পেয়েছেন কমল রায়। এখন নদীতে তেমন জল নেই। কিন্তু অভিযোগ, কমল রায় নামে ওই ব্যক্তি বাঁশের সাঁকো বানিয়ে দিয়ে নদী পারাপার করতে আসা মানুষের কাছ থেকে মাথাপিছু ২০ থেকে ৩০ টাকা করে নিচ্ছেন। কিন্তু এর জন্য কোনো রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। সূত্রের খবর, প্রতিদিন অন্তত ৫০০ মানুষ নদী পারাপার করেন। কিছুদিন আগে ক্রান্তিতে চেকেন্দা ভাণ্ডারী মেলা ছিল। মেলার কয়েক দিন হাজার হাজার মানুষ টাকা দিয়ে সাঁকোর উপর দিয়ে নদী পারাপার করেছেন। অভিযোগ, নদী পারাপারকে কেন্দ্র করে প্রচুর টাকা আয় হলেও প্রশাসন সব জেনেও চুপ করে আছে। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল এবারই প্রথম নয়, বেশ কয়েক বছর ধরেই এমনটা হয়ে আসছে। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা জানান, আজ অবধি চেল নদীতে সেতু তো হলই না, এখন উলটে নদী পারাপার করতে পকেট থেকে টাকা গুনতে হচ্ছে। রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত এমনই অকর্মণ্য যে নদীর উপর একটা বাঁশের সাঁকো বানানোর মতো সামর্থ্যও নেই। স্থানীয় বাসিন্দা কিশোর বিশ্বাস বলেন, খেয়াঘাট লিজ দেয় জানতাম। কিন্তু নদীরও মালিক হয় জানতাম না। বাইক নিয়ে নদী পারাপার করতে ৩০ টাকা গুনতে হচ্ছে। চেল নদীর উপর বাঁশের সাঁকো বানিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যবসা হচ্ছে। প্রশাসন জানে না এরকম হতেই পারে না। চরম অরাজকতা চলছে। জায়েদ আক্রম নামে এক গ্রামবাসী বলেন, এমনিতেই আমাদের দিন-আনা দিন-খাওয়া সংসার। দিনের মধ্যে অনেকবার নদী পারাপার করতে হয়। নদী পারাপার করতেই যদি সব টাকা শেষ হয়ে যায় তবে খাব কী? গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে সাঁকো বানিয়ে দিলেই তো সমস্যা থাকে না।

- Advertisement -

পদ্মশ্রী করিমুল হক বলেন, প্রতি বছর খেয়াঘাটের নিলাম হয়। তখন নৌকা করে নদী পারাপার করার সময় আমরা টাকা দিই। বহু বছর ধরেই এমনটা হয়ে আসছে। এখন নদীতে জলও সেরকম নেই, অথচ সাঁকো বানিয়ে টাকা নেওয়া হচ্ছে। সাঁকোর উপর দিয়ে বড়ো গাড়িও তো যেতে পারবে না। এখানেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়ে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আবদুল মোতালেব হোসেন বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে সাঁকো বানানো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে নদী পারাপার করতে টাকা নিতে বারণ করেছি। কিন্তু এরপরেও তো টাকা নিচ্ছে। বিষয়টির উপর কি তবে গ্রাম পঞ্চায়েতের নিয়ন্ত্রণ নেই? এমন প্রশ্ন করা হলে প্রধান সদুত্তর দিতে পারেননি।

খেয়াঘাট যিনি লিজে পেয়েছেন সেই কমল রায় টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ২১ হাজার টাকা দিয়ে খেয়াঘাটটি আমি একবছরের জন্য পেয়েছি। এছাড়া বাঁশের সাঁকো নির্মাণে ৮০ হাজার টাকা খরচ করেছি। গ্রামবাসীর সুবিধায় নদী পারাপার করতে সাঁকো বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পঞ্চায়েত থেকে নিষেধ করা সত্ত্বেও কেন টাকা নেওয়া হচ্ছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আগে তো কোনো আপত্তি ছিল না। প্রশাসন আমাকে সাঁকো তৈরির টাকা দিয়ে দিলে নদী পারাপার করতে টাকা নেব না। যার টাকা দিতে অসুবিধা সে জলে হেঁটে পারাপার করুক। প্রশাসন থেকে তাঁকে সাঁকো বানানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে কিনা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সেতু না থাকায় গ্রামবাসীরা সমস্যায় পড়েছেন। প্রশাসন তো কোনো দিন সেতু তৈরির ব্যাপারে নজর দেয় না। মাল পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি মহুয়া গোপ বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং বেআইনি। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক। মালের বিডিও বিমানচন্দ্র দাস বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এভাবে নদীর উপর সাঁকো নির্মাণ করে টাকা নেওয়া যায় না। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।