টুকরো টুকরো করে কেটে কুমীরের মাংস রান্না করে খেল মানুষ

506

কটক: হিংস্রতার চরমসীমা পেরিয়ে গেল মানুষ! ১০ ফুটের কুমীরকে ধরে, তাকে মেরে, কেটে টুকরো টুকরো করে কেটে, পরমানন্দে রান্না করে খেয়ে ফেলল একদল মানুষ। ওড়িশার মালকানগিরি জেলার ঘটনা। ওই মালকানগিরির কালাদাপল্লি গ্রামের একদল মানুষ এই মারাত্মক কান্ডটি ঘটিয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবেই কে কার খাদ্য এবং কে বেশি হিংস্র সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সূত্রের খবর, সাবেরী নদী থেকে কুমীরটিকে উদ্ধার করেছিলেন গ্রামবাসীরা। তারপর তার শরীর থেকে জল শুকানোর জন্য কুমীরটিকে দড়ি দিয়ে তেঁতুল গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর কুমীরটি মারা যায়। তারপর গ্রামের মানুষ কুমীরটির ছাল ছাড়িয়ে মাংস কেটে তা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। গ্রামজুড়ে মানুষ পরমানন্দে মাংস রান্না করে খেয়ে ফেলেন।

- Advertisement -

বনদপ্তর সূত্রে খবর, সোশ্যালমিডিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তারপর নড়েচড়ে বসে জেলার বনদপ্তর। মালকানগিরি জেলার ফরেস্ট অফিসার প্রদীপ দেবীদাস মিরাসে বলেন, ঘটনাটির তদন্তের জন্য দল গঠন করা হয়েছে। এভাবে একটি বন্যপ্রাণীকে কারা মেরে ফেলল তা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি প্রথম শোনার পর আমি হতবাক হয়ে যায়। আমাদের টিম খুবই দুর্ভাগ্যবান যে তারা কুমীরের শরীরের একটি অংশও খুঁজে পাননি। যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনার ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে তাঁদের চিহ্নিত করণের কাজ চলছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ওড়িশার নদী সংলগ্ন এই গ্রামটিতে কুমীরের নিয়মিত আনাগোনা আছে। প্রায়ই ওই এলাকার গরু-ছাগলের মতো বেশ কয়েকটি গৃহপালিত প্রাণী নদীর ধারে এসে নিখোঁজ হয়ে যেত। স্থানীয়দের ধারনা গাবদি পশু নিখোঁজ হওয়ার পিছনে কুমীরটিই দায়ী করত। তাছাড়াও, কিছুদিন আগেই নদীতে স্নান করতে গিয়ে কুমীরের হানায় প্রাণ হারিয়েছিল বছর দশেকের এক বালক। বালির চরে পরে তার ছিন্নভিন্ন দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনার দিন কয়েক পরেই কুমীরের মাংস খাওয়ার ভিডিও প্রকাশ্যে আসে।

মিষ্টি পানির কুমির, তিনটি জাতের কুমিরের মধ্যে একটি, যার মধ্যে ভারতে পাওয়া এস্তুরাইন কুমির এবং ঘড়িয়াল রয়েছে, ১৯ Wild২ সালের বন্যজীবন সংরক্ষণ আইনের তফসিল 1 এর অধীনে সুরক্ষিত রয়েছে যেহেতু তাদের স্কিনগুলি প্রচুর পরিমাণে ব্যবসা হয়।

মিষ্টি জলে সাধারণত তিন ধরণের কুমীর থাকে। যার মধ্যে ভারতে পাওয়া এস্তুরাইন কুমির এবং ঘড়িয়াল। মৃত কুমীরটি এই দুই প্রকারের মধ্যে পড়ে। ১৯৭২ সালের বন্যজীবন সংরক্ষণ আইনে এই শ্রেণীর কুমীরের চামড়া উচ্চ দামে বিক্রি হয় বলে বলা আছে।