করোনার প্রভাব, বটি নিয়ে বসে থাকছেন নিখিলরা

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : করোনা সংকটে ভাটা পড়েছে নানা অনুষ্ঠানে। বিয়ে, অন্নপ্রাশনের পাশাপাশি শ্রাদ্ধের পর মৎস্যমুখী নমো-নমো করেই হচ্ছে। আবার অন্যদিকে, বাজারে মাছের ক্রেতার সংখ্যাও আর আগের মতো নেই। তাই মাছের আঁশ ছাড়াবার কাজে ভাটা পড়েছে। আবার, মাছবিক্রেতাদের একটি বড় অংশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাছ ফেরি করে বিক্রি করছেন। ফলে মাছ কাটার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সামনে কার্যত অস্তিত্বের সংকট দেখা দিয়েছে।

রোজগারে টান পড়াতে জলপাইগুড়ি স্টেশন বাজারের ৭০ ঊর্ধ্ব নিখিল রায়, শংকর সাহাদের যেমন দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে, তেমনি দিনবাজারের বুধারু মহম্মদরাও দিশাহারা। মিউনিসিপ্যাল মার্কেটের সুমিত দাস, বরুণ দাস, বিকু চক্রবর্তী, সোনু সাহারা প্রতিদিন বটি এবং আঁশ ছাড়ানোর ব্রাশ হাতে নিয়ে প্রায় খালিই বসে থাকছেন। বুধারু মহম্মদ বলেন, দিনবাজার জলপাইগুড়ির অন্যতম বড় বাজার। লকডাউনের পূর্বে আমরা মাছের আঁশ ছাড়াবার কাজ করে নিঃশ্বাস ফেলার অবকাশ পেতাম না। মাছের আঁশ ছাড়িয়ে গড়ে প্রতিদিন ৪০০ টাকা রোজগার হত। বর্তমানে ৫০ টাকাও রোজগার হয় না। কী করে সংসার চালাব বুঝতে পারছি না। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, আমরা বড় বড় রুই, কাতলা, ইলিশ, চিতল, বোয়াল মাছ কাটি। অথচ বর্তমান পরিস্থিতির জেরে ছেলেমেয়েদের পাতে বড় মাছের টুকরো দেবার মতো ক্ষমতা নেই। মাছ কেটে পরিবারের মুখে ভাত জোগাচ্ছি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে। কিন্তু এবারের মতো সংকট অতীতে আসেনি।

- Advertisement -

স্টেশন বাজারের নিখিল রায়ে কাছে মাছের ক্রেতারা মাছ কাটার জন্য লকডাউনের পূর্বে ভারী সংখ্যায় আসতেন। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আমাদের সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ টাকা রোজগার করি বর্তমানে। চালের কেজি ৪০ টাকা। তরিতরকারির খরচ তো আছেই। মিউনিসিপ্যাল মার্কেটে বাজারের সুমিত দাস বেলন, এক কেজি মাছ কেটে আমরা ৫ টাকা পাই। ছোট মাছ এক কেজি কেটে ১০ টাকা রোজগার হয়। লকডাউনের আগে এই মার্কেটে মাছের ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়ত। এখন ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম। বিয়ের মরশুমে এবারে বিয়ে হল না। ফলে বিয়ের মাছ কাটার রোজগারও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অন্নপ্রাশনের ক্ষেত্রেও তাই। বিকু চক্রবর্তী বলেন, মাছের আঁশ কাটার সঙ্গে ব্যক্তিদের সমস্যার কথা সহানুভতির সঙ্গে বিবেচনা করে সরকারের অবিলম্বে আর্থিক সহায়তা করা উচিত।