পরিষেবা না পেয়ে পঞ্চায়েত দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ বাসিন্দাদের

325

সামসী, ২৯ জুনঃ পঞ্চায়েত দপ্তরে কারও দেখা নেই। নানা কাজে এসে কাউকে না পেয়ে, অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন। প্রধান সহ পঞ্চায়েত কর্মীরা গরহাজির। ফলে বাসিন্দারা নানা সমস্যায় পড়েছেন। ক্ষোভে চাঁচল-১ ব্লকের মতিহারপুর পঞ্চায়েত দপ্তরে সোমবার তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেন এলাকার শতাধিক বাসিন্দা। এদিন প্রধান ও পঞ্চায়েত কর্মীদের না পেয়ে পঞ্চায়েত কার্যালয়ের মূল গেটে গ্রামবাসীরা তালা ঝুলিয়ে দেন। প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে চলতে থাকে বিক্ষোভ কর্মসূচি। পরে পঞ্চায়েতের তরফে আশ্বাস দেওয়া হলে, তালা খুলে দেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের দাবি, পঞ্চায়েত দপ্তরে প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে প্রধানসহ কর্মীগণ উপস্থিত থাকতে হবে। এরপর গরহাজির থাকলে আরও বড়ো আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন বাসিন্দারা।

করোনা আবহে লকডাউনের জেরে ভিন রাজ্যে থেকে প্রচুর শ্রমিক বাড়ি ফিরেছেন। ভিন রাজ‍্য ফেরত শ্রমিকদের কুপন, কিষান ক্রেডিট কার্ডের ফর্ম দেওয়া-নেওয়া, ইন্দিরা আবাস যোজনার নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্যই ইদানিং পঞ্চায়েত দপ্তরে প্রচুর ভিড় হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এদিন সকাল থেকে শতাধিক মানুষ ভিড় জমান পঞ্চায়েত দপ্তরে। এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মী পঞ্চায়েত দপ্তর খুললেও, প্রধানসহ কারো দেখা মেলেনি। দপ্তরে কারও দেখা না পেয়ে বাসিন্দারা ক্ষুদ্ধ হয়ে পঞ্চায়েত দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রধান পঞ্চায়েতে নিয়মিত আসেননা। প্রায় প্রতিনিয়ত পঞ্চায়েতে এসে প্রধানের অনুপস্থিতি ঘুরে যেতে হয় সাধারণ মানুষকে। এই ঘটনায় আগেও ২ বার তালা ঝুলেছে ওই পঞ্চায়েত কার্যালয়ে। তবুও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। ইসতারুল আলম নামে এক বাসিন্দা জানান, মানুষ পরিষেবা পাচ্ছে না বলেই তালা ঝুলিয়েছি।তিনি আরও বলেন, মানুষ পঞ্চায়েত কার্যালয়ে এসে পরিষেবা না পেলে ক্ষুব্ধ হবেই। যার বহিঃপ্রকাশ দপ্তরে তালা ঝোলানো।

- Advertisement -

মতিহারপুর অঞ্চলের যুব তৃণমূল সভাপতি হারুন-আল-রসিদ জানান, তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পঞ্চায়েতে সিপিএম এবং কংগ্রেসের লোকজন অযথা পঞ্চায়েত দপ্তরে এসে জটলা পাকাচ্ছেন। বিষয়টিকে নিয়ে অযথা জলঘোলা করে রাজনৈতিক রুপ দিতে চাইছেন তাঁরা। মতিহারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পপি দাস নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে পঞ্চায়েত কর্মীদের অনুপস্থিতি নিয়ে বিডিও সাহেব এদিন বিকেলে জরুরি সভা ডেকেছেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন প্রধান। তিনি আরও জানান, এসব রাজনৈতিক চক্রান্ত। এলাকার সিপিএম ও কংগ্রেস জোটবদ্ধ হয়ে তালা ঝুলানোর কাজে সহযোগিতা করছে।

এখানে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বিষয়টি মানতে চাননি বিরোধীরা। চাঁচলের কংগ্রেসী বিধায়ক আসিফ মেহবুব বলেন, নিজেদের দোষ ঢাকতেই বিরোধীদের ঘাড়ে অযথা দোষ চাপাতে চাইছে শাসকদল। সিপিএমের আহ্বায়ক সানাউল্লাহ খাঁন বলেন, এদিন পঞ্চায়েত দপ্তরে কাজের জন্য আসেন সাধারণ মানুষ। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সহ স্টাফদের না আসার কারণে, পঞ্চায়েতের নানা কাজে অসুবিধা হচ্ছে মানুষের। কিন্তু, প্রধানসহ পঞ্চায়েত কর্মীদের না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে পঞ্চায়েতের তালা দেন বাসিন্দারা। এবিষয়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বলতে কিছু নেই। পঞ্চায়েত কর্মীদের গরহাজিরার বিষয়ে চাঁচল-১ বিডিও সমীরণ ভট্টাচার্য বলেন, এলাকার মানুষ পরিষেবা না পেলে বিষয়টি আমাকে জানাতে পারতেন। কোনও সরকারি দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে, প্রতিবাদ বাঞ্চনীয় নয়। তবে পঞ্চায়েত কর্মীদের গরহাজিরার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।