এনআরসির আতঙ্কে কাটমানি ভুলেছে মানুষ

411

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : কোথাও জমি কেলেঙ্কারি, কোথাও আবার স্থানীয়স্তরের নেতাদের দাদাগিরি, কাটমানি ইশ্যু। দিদিকে বলো কর্মসূচিতে মানুষের মন বুঝতে গিয়ে এমন নানা অভিযোগে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে রাজ্যের শাসকদলের নেতা, মন্ত্রী ও বিধায়ককে। জনতার প্রশ্নবাণ থেকে রেহাই মেলেনি কাউন্সিলার এবং যুব নেতাদের। তার মাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে দলীয় কোন্দলও। তবে রাজনীতিতে প্রধান প্রতিপক্ষ হলেও তৃণমূল নেতৃত্বকে কিন্তু এমন পরিস্থিতির থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রের শাসকদল এরাজ্যে এনআরসি নিয়ে যত সরব হয়েছে, ততই মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাঁরা ভুলেছেন তণমূল নেতৃত্বের কেলেঙ্কারি। ফলে রাজ্যে শাসকদলের নেতারা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন। সুযোগকে কাজে লাগাতে তাঁরা ইশ্যু করেছেন জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি। ঘনিষ্ঠমহলে সে কথা স্বীকার করে নিচ্ছেন রাজ্যের মন্ত্রী থেকে তণমূলের জেলা সভাপতিরা।

এনআরসিকে ইশ্যু করে ২১-এর ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে তৃণমূলের হাতেই কার্যত লাটাই তুলে দিয়েছে বিজেপি। এ রাজ্যে যে বিষয়টি ব্যুমেরাং হতে চলেছে, তা বুঝতে পেরে ড্যামেজ কনট্রোলেও নেমেছেন দিলীপ ঘোষরা। কিন্তু গেরুয়া শিবিরের এই পরিস্থিতির জেরে তৃণমূলে অনেকটা স্বস্তির হাওয়া। কেননা এনআরসি নিয়ে সাধারণ মানুষ এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন য়ে, তাঁরা ভুলে গিয়েছেন তৃণমূল জমানায় ঘটে যাওয়া নানা কেলেঙ্কারি এবং দুর্নীতি। নাগরিকত্বের প্রামাণ্য নথি জোগাড় করতেই তাঁরা এখন ব্যস্ত। ফলে দিদিকে বলো কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে যে তাঁদের আর তেমন বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে না, তা স্বীকার করে নিচ্ছেন তৃণমূল নেতারা। বরং সব জায়গায় এনআরসি নিয়ে আতঙ্কিতদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়ে তাঁদের জনসংযোগ কর্মসূচি ভালোই এগোচ্ছে।

- Advertisement -

উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, এনআরসি নিয়ে মানুষ এখন সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত। বিজেপির বিভাজনের জন্য প্রত্যেকের মধ্যেই আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। র‌্যাশন, আধার কার্ডের জন্য তাঁরা প্রতিদিন দৌড়োচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে কি অন্য কিছু মনে থাকে? এনআরসির জন্য দিদিকে বলো কর্মসূচির অভিমুখ যে পালটে গিয়েছে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ)-র চেযারম্যান বিজয়চন্দ্র বর্মন। তিনি বলেন, সমস্ত কিছুই পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। সরকারি প্রকল্প বা দল নিয়ে এখন আর কেউ অভিযোগ করছেন না। বরং তাঁরা এনআরসি নিয়ে জানতে চাইছেন। একজনকেও যে বাংলা ছাড়া হতে হবে না, সেই আশ্বাস আমরা দিচ্ছি। দিদিকে বলো কর্মসূচিতে  মানুষের কাছে গিয়ে কিছুদিন আগেও জমি কেলেঙ্কারি থেকে দলের স্থানীয় নেতত্বের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ শুনতে হয়েছে রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী তথা তৃণমূলের উত্তরবঙ্গের কোর কমিটির চেয়ারম্যান গৌতম দেবকে।