রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়িঃ এখন থেকে রাজ্যের যে কোনো সরকারি হাসপাতালে চিকিত্সা করাতে এলে খাদ্যসাথী কার্ড সঙ্গে করে নিয়ে আসতে হবে। যাঁদের এই কার্ড নেই তাঁদের মোবাইল ফোন নম্বর জমা দিতে হবে। এমনই নির্দেশিকা জারি করেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, জেলা, মহকুমা হাসপাতালে এই নির্দেশিকা পেঁছে গিয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তর জানিয়েছে, যাঁরা হাসপাতালে পরিসেবা নিচ্ছেন তাঁদের সমস্ত সঠিক তথ্য জমা রাখা, ভবিষ্যতে প্রত্যেক রোগীকেই ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বরের (ইউআইডি) আওতায় নিয়ে আসায় সরকারের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও অনেক সুবিধা হবে। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল সুপার ডাঃ অমিতাভ মণ্ডল বলেন, আমরা এই নির্দেশিকা পেয়েছি। বহির্বিভাগ এবং অন্তর্বিভাগ সর্বত্রই এই নতুন নিয়ম চালু করে দেওয়া হয়েছে। মানুষের কাছে খবর পেঁছাতে কিছুদিন সময় লাগবে। আমরা আশা করছি এই খাদ্যসাথী কার্ড নিয়ে চিকিত্সার জন্য এলে বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার প্রযোজন হবে না, অন্তর্বিভাগেও চিকিত্সার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।

উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা সংলগ্ন এলাকাতেই যেমন বিহার, সিকিম, অসমের মতো রাজ্যগুলি রয়েছে, তেমনই রয়েছে নেপালও। মালদা, উত্তর দিনাজপুর, শিলিগুড়ি, কোচবিহার সব জায়গাতেই এই রাজ্যের বাইরে থেকেও বহু মানুষ এসে চিকিৎসা পরিসেবা নিচ্ছেন। এমনকি রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বিহার থেকে লোক এসে বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখিয়ে ভুয়ো অসুখের কথা বলে প্রতিদিনই  প্রচুর ওষুধ নিয়ে চলে যাচ্ছে। সেই ওষুধ বিহারের হাতুড়েদের কাছে বিক্রি করছে। এটাকে ব্যবসা বানিয়ে ফেলেছে বিহারের কিছু মানুষ। এমন ঘটনা অন্যান্য জেলাতেও রয়েছে। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালেও নেপাল, সিকিমের বাসিন্দারা চিকিত্সা পরিসেবা নেন। একই অবস্থা উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, রোগীরা সঠিক তথ্য দিচ্ছেন না। এই অবস্থায় এই রাজ্যের কত মানুষ সরকারি চিকিত্সা পরিসেবা নিচ্ছেন, কত মানুষ ভিন রাজ্য বা অন্য দেশ থেকে এসে চিকিত্সা নিচ্ছেন সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্যই স্বাস্থ্যদপ্তর নতুন নিয়ম চালু করছে। আপাতত খাদ্যসাথী কার্ড নিয়ে বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারের লাইনে দাঁড়াতে বলা হয়েছে। যাদের খাদ্যসাথী কার্ড নেই, তাঁদের নিজের মোবাইল ফোন নম্বর দিতে হবে। একইভাবে অন্তর্বিভাগে কোনো রোগী ভরতি হতে এলে তাঁকেও খাদ্যসাথীর কার্ড অথবা নিজের মোবাইল নম্বর দিতে হবে। হাসপাতাল সুপার বলেন, বহির্বিভাগের প্রতিদিন ২৫০০-৩০০০ রোগী আসেন। তাঁদের বিশাল লাইন পড়ে। এক একজন রোগীর নাম, বাবার নাম, ঠিকানা সহ বিভিন্ন তথ্য নথিভুক্ত করতে অনেকটা সময় লেগে য়ায়। কিন্তু খাদ্যসাথীর কার্ডে যে কিউআর কোড রয়েছে সেটি স্ক্যান করলেই রোগীর সমস্ত তথ্য মুহূর্তের মধ্যেই সামনে চলে আসবে। ফলে বহির্বিভাগে রোগীদের টিকিট কাটতে সময় কম লাগবে। অনেক সময় দেখা য়ায়, রোগীরা সঠিক তথ্য জমা দিচ্ছেন না। কিন্তু এতদিন কোনো তথ্য যাচাইয়ে ব্যবস্থা না থাকায় আমাদেরও কিছু করার ছিল না।

স্বাস্থ্যদপ্তরের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, রাজ্য সরকার চিকিত্সা ক্ষেত্রে প্রচুর টাকা খরচ করছে। অথচ সেই পরিসেবা আমাদের রাজ্যের মানুষ সঠিকভাবে পাচ্ছেন কিনা সেটা দেখা প্রযোজন। পাশাপাশি, অন্য রাজ্য বা দেশের মানুষ কতটা সুযোগ সুবিধা নিয়ে চলে য়াচ্ছেন সেটাও ধরতে হবে। সেই জন্য ধীরে ধীরে এগোতে হবে। আপাতত খাদ্যসাথী কার্ডের কথাই বলা হয়েছে। পরবর্তীতে হয়তো যে কোনো সচিত্র পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হবে।