মুখ্যমন্ত্রীর তালিকায় ব্রাত্য ১০৪ বনবস্তিতে উদ্বেগ

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : খুশিতেও সংশয়। ২১ বছরের লড়াইয়ে পর পাহাড়ের বনবস্তিবাসীরা স্বস্তির খবর পেয়েছেন। কিন্তু সরকারি তালিকায় নিজের গ্রাম থাকবে কি না ভেবে তাঁদের উদ্বেগও বাড়ছে।

দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় ১৬৮টি বনবস্তি রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগুলির মধ্যে ৬৪টিকে রেভেনিউ ভিলেজে পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছেন। বুধবার এই সংক্রান্ত নথি মমতা গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-এর প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান অনীত থাপার হাতে তুলে দেন। ওই নথিতে কী রয়েছে তা জানতে বনবস্তিবাসীরা উৎসুক। সুখিয়াপোখরি থেকে ডাওহিল, পাহাড়ের জঙ্গলঘেরা এলাকাগুলি সরকারি বিজ্ঞপ্তির জন্য তাকিয়ে রয়েছে। যা স্পষ্ট করে দিয়ে উত্তরবঙ্গ বনজন শ্রমজীবী মঞ্চের আহ্বায়ক লালসিং ভুজেল বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু কেন মাত্র ৬৪টি ফরেস্ট ভিলেজের কথা বলা হল বুঝতে পারছি না। কীসের নিরিখে ১০৪টি বনবস্তিকে বাদ দেওয়া হল, তা স্পষ্ট নয়। তাই সরকারি নির্দেশিকার জন্য অপেক্ষা করছি।

- Advertisement -

পাট্টার দাবিতে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পাহাড়ের বনবস্তিবাসীরা আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বনবস্তিবাসীদের মুখে হাসি ফোটাতে মুখ্যমন্ত্রী ৬৪টি ফরেস্ট ভিলেজকে রেভেনিউ ভিলেজে পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ পাট্টা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হল। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের জেরে ভবিষ্যতে দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার বনবস্তিগুলির মধ্যে বিভাজন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা ছড়িয়েছে। মূলত যে বনবস্তিগুলি রেভেনিউ ভিলেজে পরিবর্তিত হবে সেখানকার বাসিন্দাদের মুখে হাসি ফুটবে। পাশাপাশি, সরকারি তালিকার বাইরে থাকা বনবস্তিগুলিতে নতুন করে ক্ষোভের সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।  কিছুদিন আগে বন দপ্তরের তরফ থেকে কিছু বনবস্তির মাপজোখ করা হয়। সে সময়ই কেন তাঁদের জমি মাপা হল না তা নিয়ে বন দপ্তরের তালিকার বাইরে থাকা বনবস্তিগুলির বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছিলেন।

নতুন সরকারি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিশদে জানা উচিত বলে অখিল ভারতীয় জঙ্গল আন্দোলন মঞ্চের সদস্য সৌমিত্র ঘোষ জানান। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী অনীত থাপার হাতে কী কাগজ তুলে দিলেন, তাতে কোনও ভিলেজের নাম আছে কি না তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। তাই বিস্তারিতভাবে জানাটা প্রয়োজন। বাদ যাওয়া ফরেস্ট ভিলেজগুলিকে রেভেনিউ ভিলেজে পরিবর্তনের দাবি নতুন করে তোলা হবে। অনীত থাপা বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে পাহাড়ের সমস্ত বনবস্তিবাসী খুশি হবেন। কেননা, তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে রাজ্য সরকার পাট্টা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করল। যে বনবস্তিগুলি রেভেনিউ ভিলেজে পরিণত হবে, সেখানে ২০০৬ সালের বন অধিকার আইন কার্যকর হবে। অর্থাৎ প্রতিটি মৌজার নাম পরিবর্তিত হবে। নতুন করে জমির দাগ নম্বর পড়বে। তারপরই বনবস্তিবাসীরা জমির পাট্টা হাতে পাবেন।