ভোজনের রাজনীতিতে অসন্তোষ অনগ্রসরদের

519

সোমনাথ চক্রবর্তী, কলকাতা : মুসলিম ভোট বিজেপির বাক্সে পড়বে না মনে করে তপশিলি জাতি ও জনজাতিদের ওপর ভরসা করে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হতে এখন মরিয়া বিজেপি। সেইমতো আদিবাসী, মতুয়া জনজাতির বাড়ি গিয়ে ভোজন রাজনীতি বিজেপি শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ায় আদিবাসী বাড়িতে, শুক্রবার কলকাতার এক মতুয়া পরিবারে মধ্যাহ্নের আহার করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দেখলে সহজেই বোঝা যায়, সমাজের পিছিয়ে পড়া নমশূদ্র, মতুয়া, রাজবংশী, বাগদি সহ ৬০টি তপশিলি জাতি এবং জনজাতির সিংহভাগ রাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে থাকে সবসময়। বামেদের সময় বামেদের সঙ্গে, কংগ্রেসের সময় কংগ্রেসের সঙ্গে, এখন তৃণমূলের সঙ্গে রয়েছে পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীগুলি। গত লোকসভা নির্বাচনে অবশ্য কিছু পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায় বিজেপির দিকে ঝুঁকতে শুরু করে। ফলে জঙ্গলমহল, উত্তরবঙ্গ, নদিয়া, বনগাঁ সহ তপশিলি এবং জনজাতি অধ্যুষিত এলাকার অনেক আসনে বিজেপি জয়লাভ করে। বিধানসভা নির্বাচনে সেই ভোট ধরে রাখতে মরিয়া বিজেপি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম, এমনকি বাম নেতারা তাই মনে করছেন। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী উপেন বিশ্বাস বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীগুলিকে নিয়ে সব দলই রাজনীতি করছে। এই সম্প্রদায়গুলির অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা সমাজের মূলধারায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয় না। তাই বিহার, উত্তরপ্রদেশে দলিত নেতা জাতীয় রাজনীতিতে উঠলেও পশ্চিমবঙ্গে ওঠেনি। জগজীবন রাম, কাশিরাম, রামবিলাস পাসোয়ান সহ বহু নেতা জাতীয়স্তরে গিয়েছেন। কিন্তু এখানে তেমন কিছু হয়নি।

উপেনের বক্তব্য, নাগরিকত্ব আইন পাশ করা হয়েছে। কিন্তু রুল তৈরি করা হয়নি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আদিবাসী এবং মতুয়াদের বাড়িতে যাচ্ছেন। মধ্যাহ্নভোজন করছেন। ভালো কথা। আমাদের সংগঠন মর্যাদা সুরক্ষা ট্রাস্টের পক্ষ থেকে দাবি করছি, নাগরিকত্ব আইনে কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখা চলবে না। অত্যাচারিত হয়ে যে যখন আসবে, তখনই তাকে নাগরিকত্ব দিতে হবে। রাজ্যে তপশিলি জাতি ও জনজাতি মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৯ শতাংশ। এর মধ্যে তপশিলি জাতি সাড়ে ২৩ শতাংশ। জনজাতির হার সাড়ে পাঁচ শতাংশের বেশি। এই ভোটব্যাংকে ভালো করে ভাগ বসাতে পারলে প্রায় ৯০টি আসনে জয় নিশ্চিত হয়। এটা যে দল পাবে, তার লাভ। সেই লক্ষ্যে এগোচ্ছে বিজেপি। বসে নেই তৃণমূলও। মতুয়া সম্প্রদায়ে জন্য উন্নয়ন, রাজবংশী, বাগদি সহ বিভিন্ন জাতির উন্নতির জন্য টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা অধীর চৌধুরী অবশ্য দাবি করেছেন, এভাবে টাকা না দিয়ে পরিকল্পনা করে সার্বিক উন্নয়ন করা হোক।

- Advertisement -