পানীয় জলের জন্য ভুটানই ভরসা বান্দাপানির

221

বীরপাড়া : সীমান্তে নজদারির অত কড়াকড়ি নেই। ফলে ভিনদেশ হলেও ভারতের বাসিন্দারা প্রয়োজন মতো কাজে নিত্য যাতায়াত করেন। যেমন ডুয়ার্সের বীরপাড়া থানার বন্ধ চা বাগান বান্দাপানিতে পানীয় জল সংগ্রহে রোজই প্রতিবেশী দেশ ভুটানে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। বস্তুত ভুটানের জলেই বেঁচে আছেন কয়েক হাজার ভারতীয় নাগরিক। বাড়ি থেকে প্রায় ছয় কিমি পথ শুখা নদীর ওপর দিয়ে ভুটানের ধুমচিডারায় যান বান্দাপানির মানুষ। শুধু পানীয় জল সংগ্রহে নয়, কাপড় কাচা ও স্নান করতেও তাঁরা ভুটানের জলের উপর নির্ভশীল। বান্দাপানি চা বাগানের বাসিন্দা সুকমণি ওরাওঁ, রিন্তু নাগাসিয়ারা বলেন, মানুষ টাকা খরচ করে ভুটান ভ্রমণে যান। কিন্তু আমরা কাপড় কাচতে, পানীয় জল সংগ্রহ করতে ভুটানে য়াই। ভুটানের জলের ওপর নির্ভর করে আমরা বেঁচে রয়েছি। বান্দাপানি এলাকার বাসিন্দা দিলবাহাদুর তামাং, সোমরা খারিয়ারা অবিলম্বে পিএইচইর মাধ্যমে পানীয় জলের ব্যবস্থার দাবি জানান।

ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা জল ধরে রাখতে সীমান্তবর্তী পাহাড়ের ভারতের অংশে তিনধারিয়া ও ধুমচিডারায় দুটি জলাধার রয়েছে। সেই জলাধার থেকে পাইপের মাধ্যমে বন্ধ বান্দাপানি চা বাগান, গারুচিড়া বনবস্তি সহ বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সেই পাইপগুলির শোচনীয় অবস্থা। অনেক জায়গাতেই পাইপলাইন নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ বাগানের বাসিন্দাদের। এছাড়াও মাঝেমধ্যে বুনোহাতির পাল এসে পাইপলাইন ভেঙে দিয়ে যায়। ফলে সমস্যা আরও বাড়ে। শুখা মরশুমে পাইপলাইনের মাধ্যমে জলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। বান্দাপানি চা বাগানে পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে প্রশাসনকে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন বাগানের বাসিন্দারা কিন্তু এখনও সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ বাগানের বাসিন্দাদের। এ বিষয়ে মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রোহিত বিশ্বকর্মা বলেন, বান্দাপানিতে পানীয় জলের সমস্যার বিষয়ে কথা বলতে আমরা খুব শীঘ্রই আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদে যাব।

- Advertisement -