সরকারি উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্স পরিসেবা চালুর দাবি বারবিশায়

301

নৃসিংহপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়, বারবিশা :  বারবিশায় সরকারি উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্স পরিসেবা চালুর দাবি উঠেছে। বর্তমানে বেসরকারি পরিবহণকর্মীদের উদ্যোগে একটিমাত্র অ্যাম্বুলেন্স চলছে বারবিশায়। ওই অ্যাম্বুলেন্স দিনরাত ব্যস্ত থাকে। জনসংখ্যার নিরিখে এলাকায় আরও অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম কিংবা হঠাত্ অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে খুব সমস্যা হচ্ছে। সময়মতো হাসপাতালে না পেঁছানোর জন্য বিনা চিকিত্সায় মৃত্যুও ঘটছে। সমস্যা মেটাতে সরকারি উদ্যোগে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স পরিসেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন বারবিশার বাসিন্দারা। তবে, সমস্যা মেটাতে পদক্ষেপ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েেন সাংসদ জন বারলা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীতে সাংসদ কোটার টাকায় বারবিশার বাসিন্দাদের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছিল। লায়নস ক্লাবের পক্ষ থেকে সেই অ্যাম্বুলেন্স চালানো হত। সেটি বিগড়ে যাওয়ায় সমস্যা শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দা দেবাশিস বর্মন বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সঠিক অ্যাম্বুলেন্স পরিসেবা পাচ্ছে না বারবিশাবাসী। এ নিয়ে ক্ষোভ জমেছে এলাকায়। আগে লায়নস ক্লাব এবং বিবেকানন্দ ক্লাবের উদ্যোগে দুটি অ্যাম্বুলেন্স চলত। সেগুলি বহুদিন অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। প্রযোজনের সময় অ্যাম্বুলেন্স মিলছে না। এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিত্ চক্রবর্তী বলেন, অসম-বাংলা সীমান্তের বারবিশা এবং আশপাশের গ্রামগুলিতে লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। বারবিশা চৌপথি, নিউটাউন, সেলস ট্যাক্স চেকপোস্ট, এমভিআই চেকপোস্ট, চকচকা সহ ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে পথ দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। তাই বারবিশায় সমস্তরকম সুবিধা সহ আধুনিকমানের অ্যাম্বুলেন্স পরিসেবা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্তাদের অবশ্যই পদক্ষেপ করা উচিত।

- Advertisement -

গৃহবধূ রুমা দাস চক্রবর্তী বলেন, কিছুদিন আগে নিকট আত্মীয় পথ দুর্ঘটনায় জখম হন। বহুবার যোগাযোগ করেও অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়নি। আত্মীয়ে প্রাণ বাঁচাতে একটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অসহায়ে মতো ছুটতে হয়েছে। সমস্যা মেটাতে প্রশাসনের কর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এ ব্যাপারে ভল্কা বারবিশা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রেশমা কিস্কু জানান, এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সের প্রযোজন রয়েছে। কীভাবে কী করা যেতে পারে সেসব পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বারলা জানান, সমস্যা মেটাতে তিনি অবশ্যই পদক্ষেপ করবেন। নতুন অ্যাম্বুলেন্স পরিসেবা চালুর জন্য বারবিশাবাসীর কাছে আরও কিছু সময় চেয়েছেন তিনি।