দুই বছরে শ্মশানঘাট গিলে নিয়েছে বুড়ি বালাসন

302

সৌরভ রায়, ফাঁসিদেওয়া : তৈরি হওয়ার মাত্র দুবছর পেরোতেই বুড়ি বালাসন নদীর ভাঙনে ধসে পড়েছে আস্ত শ্মশানঘাট। স্থায়ী বাঁধ তৈরি না করে নদীর পাড়ে লক্ষাধিক টাকা খরচ করে ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের চৌধুরীয়াগছে শ্মশানঘাট নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আশপাশের গ্রাম মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। শবদাহ করতে সমস্যা হওয়ায় গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ জমেছে। সমস্যা সমাধানে বোল্ডারের বাঁধ দিয়ে ফের শ্মশানঘাট নির্মাণের দাবি তুলেছেন বাসিন্দারা।

২০১৮ সালের মে মাস নাগাদ চৌধুরীয়াগছ এলাকার মানুষের দাবিতে বুড়ি বালাসন নদীর পাড়ে পাকা শ্মশানঘাটটি নির্মাণ করা হয়েিল। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ প্রায় ৪ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে সেটি নির্মাণ করে। স্থানীয়দের তরফে জানা গিয়েছে, উদ্বোধনের পর প্রায় ১৫টি মৃতদেহ ওই শ্মশানে দাহ করা হয়েছে। এবছর বর্ষায় নদীর ভাঙনে সেটি ধসে নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। চৌধুরীয়াগছ ছাড়াও পিঠাখাওয়া, খাড়োভাঙ্গী, জয়ন্তিকা, ছোবাগছ সহ একাধিক গ্রামের মানুষ এই শ্মশানে দেহ দাহ করতেন। এটি ভাঙার কারণে খোলা মাঠেই মৃতদেহ দাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা হরেন রায় বলেন, নদী থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে শ্মশানঘাট নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু, চৌধুরীয়াগছ এলাকায় নদীর পাড়ে বোল্ডার বাঁধ না থাকায় বর্ষায় নদীতে ভাঙন হয়। ফলে সংলগ্ন জমি এবং শ্মশান নদীতে তলিয়ে গিয়েছে।

- Advertisement -

অপর এলাকাবাসী সিধু সিংহ বলেন, বহুবার প্রশাসনের কাছে আবেদন করার পর শ্মশানঘাট তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণের ফলে শ্মশানঘাট ভেঙে পড়েছে। ফলে, প্রচুর মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। নদী থেকে দূরে শ্মশানঘাট পুনর্নির্মাণ করে দেওয়া হোক। অপরদিকে ফাঁসিদেওয়া পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি তথা বিজেপি নেতা প্রণবেশ মণ্ডল বলেন, অপরিকল্পিতভাবে শ্মশানঘাট নির্মাণের জন্য তৈরির ২ বছরের মধ্যে সেটি ভেঙে পড়েছে। বিধাননগর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুজয় মজুমদার বলেন, নদীভাঙনের বিষয়টি ইতিমধ্যেই সেচ দপ্তরকে জানানো হয়েছে। শ্মশানঘাটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তাপস সরকার বলেন, দাবি মেনে গ্রামবাসীদের দেখানো জায়গায় নদী থেকে অনেকটা দূরেই শ্মশান নির্মাণ করা হয়েছিল। নদী এতটা এগিয়ে আসবে সেটা আগে থেকে কেউই বুঝতে পারেননি। ইঞ্জিনিয়ারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে। পাশাপাশি, মহকুমা পরিষদের সদস্যের সঙ্গে কথা বলে আপাতত বিকল্প কিছু করা যায় কি না তাও ভাবা হচ্ছে। তবে, জায়গা থাকলে নতুন করে শ্মশানঘাট নির্মাণ করা হবে বলেও তিনি জানান।