দেবেন্দ্রপুরের একাংশ দ্বীপ হওয়ার শঙ্কা

রাঙ্গালিবাজনা : মহল্লার গা ঘেঁষে উত্তর থেকে সোজা দক্ষিণে গিয়ে মহল্লাটিকে বেড় দিয়ে নদীটি ইউ টার্ন নিয়ে আবার সোজা এগিয়ে এসেছে উত্তর দিকেই। ফলে আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের রাঙ্গালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবেন্দ্রপুরের দক্ষিণাংশের ওই মহল্লাটির তিন দিক এখন ঘেরা মুজনাই নদী দিয়ে। তার চেয়ে বড় কথা, মহল্লাটিকে বেড় দিয়ে এসে মহল্লায় প্রবেশের মুখে মুজনাইয়ে উত্তর ও দক্ষিণমুখী জলস্রোত একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। আর ত্রিশ-চল্লিশ ফুট পাড় ভাঙলেই একেবারে সোজা পথে বয়ে যাবে মুজনাই নদী। আর তাহলে দেবেন্দ্রপুরের একেবারে দক্ষিণ দিকে অবস্থিত সাতটি পরিবার পুরোপুরি নদীবেষ্টিত হয়ে পড়বে। একেবারে দ্বীপে পরিণত হবে এলাকাটি।

রাঙ্গালিবাজনায় মুজনাই ও ইকতি নদীর পাড়ভাঙনে যে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে তা স্বীকার করেন এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও। মাদারিহাট-বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির স্থানীয় সদস্য তথা খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ সাজিদ আলম বলেন, এ বছর প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে নদীর পাড়ভাঙনে এ বছর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাও বেশি। তবে কয়েকটি জায়গায় জরুরি ভিত্তিতে বাঁশ ও বালির বস্তা দিয়ে পাড়বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও বোল্ডার দিয়ে পাড়বাঁধ তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। আবার কয়েকটি এলাকায় পাড়ভাঙন ঠেকাতে পাড়বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি বছর মুজনাই নদীর পাড়ভাঙনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দেবেন্দ্রপুর ও মণিপুরের বাসিন্দারা। নদীগর্ভে জমি তলিয়ে যেতে দেখে ধান গাছ কেটে গবাদি প্রাণীদের খাইয়ে দিতেও কৃষকদের দেখা গিয়েছে। এদিকে, দেবেন্দ্রপুরের হামিদুল ইসলাম, খুরশিদ আলম, আবদুল গফুর, মোসাদ্দেক আলম, নবিউল ইসলামের পরিবার সহ সাতটি পরিবার পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে চলেছে।

- Advertisement -

এলাকার বাসিন্দা আবদুল গফুর বলেন, আমাদের যে কোনও সময় ভিটেমাটি হারিয়ে গাছতলায় দাঁড়াতে হতে পারে। স্থানীয় যুবক ওয়াসিম আক্রম বলেন, আমাদের মহল্লার একপাশে বহু বছর আগে যে বোল্ডারের পাড়বাঁধটি তৈরি করা হয়েছিল, সেটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। যে কোনও মুহূর্তেই ভেঙে পড়তে পারে সেটি। এ বছর মুজনাই ও ইকতি নদীর পাড়ভাঙন নিয়ে রাঙ্গালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের সাধুপাড়ার বাসিন্দারা চাঁদা তুলে আর্থমুভার দিয়ে নদীর চরের ওপর দিয়ে খাল তৈরি করে নদীর জলস্রোত ঘুরিয়ে দিয়ে পাড়ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন। আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের স্থানীয় সদস্য আশা নার্জিনারি বলেন, এলাকায় এ বছর পাড়ভাঙনের মাত্রা বেশি। বিভিন্ন এলাকায় পাড়বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। দেবেন্দ্রপুরের ওই মহল্লাটি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।