উন্নয়নের প্রশ্নে এনটিপিসির ওপর খাপ্পা ফরাক্কাবাসী

ফরাক্কা : ফরাক্কা এনটিপিসি তথা ফিডার ক্যানেলের পশ্চিমপাড়ে বসবাসকারী মানুষের সড়কপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম কেদারনাথ সেতু। কিন্তু অনেকদিন ধরেই ওই সেতু বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এর ফলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে এলাকার মানুষজন। এনটিপিসি কর্তৃপক্ষ কেদারনাথ সেতুর পাশে আরেকটি ব্রিজ তৈরির কাজে হাত দিয়েছিল। কিন্তু অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় সেই কাজও বন্ধ হয়ে রয়েতে। এর মধ্যেই এই পথ দিয়ে প্রতিদিন হাজারো ভারী যানবাহন চলাচল করে। এতে এলাকার মানুষজন যাতায়াতের ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়ছেন। এনিয়ে এনটিপিসি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভও জমছে জনমানসে।

এপ্রসঙ্গে নিশিন্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা শ্রীমন্ত মণ্ডল বলেন, এলাকার উন্নয়নের জন্য সিএসআর খাতে এনটিপিসি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রচুর অর্থ আসে। কিন্তু তারা এলাকার উন্নয়নে কোনো কাজ করে না। যদি তারা উন্নয়নের কাজে তৎপরতা দেখাত, তবে এতদিনে কেদারনাথ বা খোসালপুর ব্রিজ, সংলগ্ন রাস্তা, এমনকি কাটান এলাকাতেও নতুন ব্রিজ তৈরি হয়ে যেত। উন্নয়নের এসব কাজ না করে এনটিপিসি কর্তৃপক্ষ মাঝেমধ্যে স্কুলে স্কুলে কিছু খাতা, জামা, চেয়ার-টেবিল বিলি করে বেড়ায়। তার সঙ্গে মাঝেমধ্যে তারা কিছু ট্রেনিং দিয়ে নিজেদের দায় সারে। শুধু এই সমস্যাই নয়, অ্যাশ ডাইকের ছাই যখন উড়তে শুরু করে, তখন আশেপাশের গ্রামে থাকা যায় না। দূষণের মাত্রা লাগামছাড়া হয়ে যায়। এসব নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো হেলদোল নেই। এমনকি স্থানীয় ক্ষেত্রে বেশ কিছু পদ শূন্য থাকলেও সেসব পদে নিয়োগ করার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না এনটিপিসি কর্তৃপক্ষ।

- Advertisement -

এনিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ফরাক্কা তৃণমূলের টাউন সভাপতি বিশ্বজিৎ হাওলাদার। তিনি বলেন, এনটিপিসি ফরাক্কায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। অথচ তারা এতদিন ধরে নিজেদের যাতায়াতের জন্যই একটা সেতু নির্মাণ করে উঠতে পারেনি। একটি ব্রিজ অর্ধেক তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে। ২-৩ বার ওই ব্রিজটির শিলান্যাস হয়েছে। অথচ ৫-৬ বছর ধরে সেটির কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েতে। পাশের নিশিন্দ্রা গ্রামের কাটানে একটি সেতু তারা বানাতে পারেনি। গ্রামের কালভার্টটি উঁচু করতে পারেনি। ভাঙাচোরা রাস্তাও এখনো ঠিক হয়নি। সিএসআর-এ যা কাজ হয় তা শুধুই নাম কা ওয়াস্তে। স্থানীয় নিয়োগ তারা বন্ধ করে রেখেছে। অথচ বাইরে থেকে নিয়ম মেনে বাস্তুকার নিয়োগ ঠিকই চলছে। কেন্দ্রের মোদি সরকার বলছে, স্থানীয় নিয়োগ বাড়াতে হবে। অথচ কেন্দ্রীয় সংস্থা হয়ে সেই নির্দেশ মানছে না এনটিপিসি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে এনটিপিসি ফরাক্কার কোনো কাজেই লাগছে না। যাদের সংস্থার এজিএম কিংবা সিজিএম করে পাঠানো হচ্ছে, তারা নিজেদের পদোন্নতি ছাড়া আর কিছু ভাবে না। এনিয়ে আমরা আন্দোলনে নামারও ভাবনাচিন্তা করছি।

ফরাক্কার বিধায়ক মইনুল হক বলেন, এলাকার কাজের জন্য স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের জন্য আমি বর্তমান সিজিএমকে বহুবার বলেছি। স্থানীয় নিয়োগের ক্ষেত্রে বহু পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে, অথচ সেই পদে নিয়োগ করা হচ্ছে না। একেকজন আধিকারিক আসছেন, কিছু সময় কাটিয়ে চলে যাচ্ছেন। কেউ কোনো কথা কানে তোলেন না। এলাকায় একটি ব্রিজ নির্মাণ হতে হতে কাজ বন্ধ হয়ে গেল। সেই ব্রিজের কাজ ফের কবে শুরু হবে কেউ জানে না। এনিয়ে অনেকবার কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছি। কেউ কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। সিএসআর বিভাগও ঠিকমতো কাজ করে না। এসব নিয়ে আমরাও দ্রুত আন্দোলনে নামতে চলেছি।