রাহুল দেব, রায়গঞ্জ : ইটাহার ব্লকের সুরুন-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের গোড়াহারঘাটে বাংলা ও বিহারের মধ্যে সংযুক্তিকরণে এখনও ভরসা বাঁশের সাঁকো। বিহারের বারসই গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত তারাপুর গ্রামের সঙ্গে ওই সাঁকোর সংযোগ।

রায়গঞ্জ সংলগ্ন এই ঘাটটির ঠিক পাশেই মহানন্দা-কুলিক-নাগরের মোহনা। তাই বর্ষাকালে নদী ফুলে ফেঁপে ওঠে। তখন বাঁশের সাঁকো তুলে নিতে হয়। আবার কখনও স্রোতের তোড়ে সাঁকো ভেঙেও যায়। ভোগান্তি পোহাতে হয় যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষকে। সেই সময় ভরসা নৌকা। শুধু তাই নয়, ওই সাঁকো দিয়ে শুধু সাইকেল ও বাইক চলাচল করতে পারে। চারচাকা চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। অথচ ওই সাঁকো দিয়ে বিহারের অসংখ্য বাসিন্দা রায়গঞ্জে আসেন চিকিৎসা সহ অন্যান্য উদ্দেশ্যে। খুব সঙ্কটজনক রোগীর ক্ষেত্রে তাঁকে অনেক ঘুরিয়ে বলরামপুর-টুঙ্গিদিঘি হয়ে রায়গঞ্জে আসতে হয়। এতে যেমন সময় বেশি লাগে, তেমনই আপৎকালীন রোগীর ক্ষেত্রে প্রাণসংশয় হয় বলে জানাচ্ছেন সাঁকো ব্যবহারকারী বিহারের বাসিন্দারা। তাঁরা জানান, সাঁকো হেঁটে পার হতে কোনো পয়সা না লাগলেও সাইকেল নিয়ে যেতে পাঁচ টাকা ও বাইক নিয়ে যেতে লাগে ১০ টাকা টোলট্যাক্স হিসাবে দিতে হয়। কিন্তু মরণাপন্ন রোগীকে ওই সাঁকো দিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব।

২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে উত্তর দিনাজপুরের তৎকালীন জেলাশাসককে পূর্ত দপ্তরের হাইওয়ে ডিভিশনের পক্ষে তৎকালীন এগ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সেতু প্রোজেক্টের বিষয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। তাতে রায়গঞ্জ থেকে বারসই পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা (ভায়া গোড়াহারঘাট পাকা সেতু সহ) তৈরির বিষয়ে বলা হয়। শুধু তাই নয়, ওই সেতুর বিষয়ে পূর্ত দপ্তরের তৎকালীন রাজ্যের চিফ ইঞ্জিনিয়ারকেও জানানো হয়। সূত্রের খবর, বিহারের বলরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৎকালীন বিধায়ক দুলাল গোস্বামী সেতু তৈরির বিষয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসনকে এনওসিও দিয়েছিলেন। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের তরফে ওই এলাকায় সার্ভে করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তা আর কার্যকর হয়নি। সুরুন-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অনিতা দাস বলেন, ওই সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। বিগত দিনে পাকা সেতুর দাবিতে আন্দোলনও হয়েছে। কিন্তু সেতুটি আর হয়নি। স্থানীয় বিধায়ক অমল আচার্য বলেন, আমি নিজে ওখানে পাকা সেতুর বিষয়ে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিলাম। সরকারের তরফে ইতিবাচক পদক্ষেপও করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা সেই সময় রাস্তার জন্য জমি দিতে চাননি। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোর করে কৃষিজমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে। তাই সেই সময় স্থানীয়দের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। পরবর্তীতে ইটাহার ব্লকেরই বাড়িওলঘাটে পাকা সেতু তৈরির পরিকল্পনা নেয় সরকার। বাড়িওলঘাটে যদি সেতু নির্মাণ হত, তাহলেও বাংলা ও বিহারের সংযোগ অনেক সহজ হত। কিন্তু সেই সময় গোড়াহারঘাট এলাকার বাসিন্দারা আন্দোলন শুরু করেন যাতে সেতুটি গোড়াহারেই করা হয়। তাই শেষ পর্যন্ত সেতুটি আর তৈরি হয়নি।

২০১৩-১৪ আর্থিক বর্ষে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর থেকে গোড়াহারঘাটে সেতু তৈরির জন্য চার কোটি টাকা বরাদ্দও করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ওই টাকা ফেরত চলে যায়। এপ্রসঙ্গে অমলবাবু বলেন, টাকার বিষয়ে আমি কিছু বলব না। তবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের তরফে সেতু নির্মাণের জন্য সার্ভে করা হয়েছিল। অমলবাবু আরও বলেন, যেহেতু এলাকাবাসীর আপত্তিতে সরকার একবার সেতুর বিষয়ে পিছিয়ে গিয়েছে, তাই আবার সেতু তৈরির বিষয়টি দেখতে হবে। তবে সেতুর প্রয়োজনীয়তার কথা অমলবাবু স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলা ও বিহারের ওই এলাকার অসংখ্য মানুষ বৈবাহিকসূত্রে ও কর্মসূত্রে আবদ্ধ। তাই সেতুটি তৈরি করা জরুরি।