হলদিবাড়ি, ১৯ অক্টোবর : রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য তুলে ফেলতে হয়েছে কোচবিহারের রাজ আমলে বসানো ত্রিফলা বাতিস্তম্ভ। সে সময় কথা হয়েছিল, পূর্ত দপ্তর সেটি সংরক্ষণ করবে। কিন্তু এক বছর অতিক্রান্ত হলেও সেটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হলদিবাড়ির মানুষ।  দ্রুত সেটি সংরক্ষণ করার দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা।

কোচবিহারের রাজ আমল থেকেই হলদিবাড়ি শহরের পূর্বপাড়ায় ইমিগ্রেশন রোডের পাশে বাতিস্তম্ভটি ছিল। ইমিগ্রেশন রোডে বাতিস্তম্ভটি লাগানো হয়েছিল কোচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণের বিয়ের সময়। ১৮৭৮ সালে ৬ মার্চ মহারাজার সঙ্গে কেশবচন্দ্র সেনের কন্যা সুনীতিদেবীর বিয়ে হয়। সেই সময় কোচবিহারের মহারাজা হলদিবাড়ি হয়ে কলকাতা যাতায়াত করতেন। তাই মহারাজার বিয়েকে ঘিরে সেজে উঠেছিল হলদিবাড়ি। বিয়ে করে ফেরার পথে স্ত্রীকে নিয়ে হলদিবাড়িতে কয়েকদিন ছিলেন মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণ। তাঁদের বিশ্রামের জন্য তৈরি করা হয়েছিল ডাকবাংলো। ডাকবাংলোটি বর্তমানে পূর্ত দপ্তরের চত্বরে রয়েছে। আলোয় সাজানো হয়েছিল হলদিবাড়িকে। তখনকার রেলওয়ে প্লাটফর্ম থেকে ইমিগ্রেশন রোডের দুই ধারে বসানো হয়েছিল ত্রিফলা বাতিস্তম্ভ। লোহার সেই সব ত্রিফলা বাতিস্তম্ভ কালের নিয়মে ধ্বংস ও চুরি হয়ে গেলেও একটিমাত্র ধ্বংসপ্রায় স্তম্ভ আজও ইতিহাসের সাক্ষ্যবহন করে চলছে।

হলদিবাড়ি-মেখলিগঞ্জের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার জন্য তিস্তা নদীর ওপর জয়ী সেতুর কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে চলছে সেতুর সংযোগকারী রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ। রাস্তা সম্প্রসারণ করতে গিয়ে রাস্তার ধারে থাকা রাজ আমলের এই নিদর্শনটি তুলে ফেলতে হয়। গত বছর দুর্গাপুজোর আগে হলদিবাড়ি শহরের পূর্বপাড়া আননোন ফ্রেন্ডস ক্লাবের সদস্যরা বাতিস্তম্ভটিকে পূর্ত দপ্তরের হাতে তুলে দেয়। সে সময় দপ্তরের পক্ষ থেকে হলদিবাড়ি পুরভবনের সামনে অথবা পূর্ত দপ্তর চত্বরে অবস্থিত ডাকবাংলোর সামনে সেটি রাখার কথা বলা হয়। কিন্তু সেই কাজ আজও করে উঠতে পারেনি পূর্ত দপ্তর। এতেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

হলদিবাড়ি শহরের প্রবীণ নাগরিক হিমাংশু চন্দ, মৃণালকান্তি সরকার ও বাসুদেব বিশ্বাস বলেন, এর সঙ্গে হলদিবাড়ির মানুষের আবেগ জড়িত। শহরে অন্তত ১৬টি এই ধরনের ত্রিফলা বাতিস্তম্ভ ছিল। কালের নিয়মে বেশকিছু নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কিছু চুরিও হয়ে গিয়েছে। এটির ওপর নজর ছিল সমাজবিরোধীদের। তাঁদের দাবি, বাতিস্তম্ভটিকে সংরক্ষণের পাশাপাশি হেরিটেজ ঘোষণা করতে হবে। কোচবিহার হেরিটেজ সোসাইটির হলদিবাড়ি শাখার সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র রায় বলেন, ‘বাতিস্তম্ভটিকে হেরিটেজ ঘোষণার বিষয়ে তিনি আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু কোনো আজ হয়নি। পূর্ত দপ্তরের হলদিবাড়ি সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার রবীন্দ্র সিং বলেন, দপ্তরের ক্যাম্পাসে ত্রিফলা বাতিস্তম্ভটি সংরক্ষণের পরিকল্পনা নেওযা হয়েছে।