মাংসের অনুরাগী ছিল সিন্ধু সভ্যতার মানুষ, বলছে গবেষণা

494

নয়াদিল্লি : কেমন ছিল সিন্ধু সভ্যতায় মানুষের খাদ্যাভ্যাস? কী খেতেন তাঁরা? কাঁচা না সেদ্ধ? রান্না হত কীভাবে? তেল-মশলা দিয়ে নাকি শুধুই সেদ্ধ-ভাত? এনিয়ে বহু মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। সেই সময়ে অনেক কথাই সেভাবে জানা নেই। তবে সিন্ধু উপত্যকার বাসিন্দাদের জিভ যে বেশ স্বাধীন ছিল, তার ইঙ্গিত মিলছে ইদানীংকালের গবেষণা থেকে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, আজ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে সিন্ধু নদের তীরে গড়ে ওঠা সভ্যতায় মানুষের খাদ্যতালিকায় গোমাংসের ঢালাও আয়োজন থাকত। গোমাংসের নানা পদ প্রচলিত ছিল বলে জানা গিয়েছে। বুধবার জার্নাল অফ আর্কিওলজিক্যাল সায়েন্স-এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। সেই সময়ে ব্যবহৃত খাবার থালা, বাটি ইত্যাদিতে চর্বি জাতীয় খাবারের অবশেষ পরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। উত্তর-পশ্চিম ভারতে সিন্ধু সভ্যতার মৃৎশিল্পে লিপিডের অবশিষ্টাংশ শীর্ষক এই গবেষণাকর্মের নেপথ্যে রয়েছেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অক্ষয়েতা সূর্যনারায়ণ। পিএইচডি থিসিসের অংশ হিসাবে অক্ষয়েতা সিন্ধু সভ্যতার বাসিন্দাদের খাদ্যাভ্যাসের ভিত্তি জানতে হরপ্পা সভ্যতায় ব্যবহৃত মৃৎপাত্রগুলিতে লিপিডের অবশিষ্টাংশ বিশ্লেষণ করে ওই সিদ্ধান্তে পৌঁছোন। হরপ্পা সভ্যতার ওই অংশটি বর্তমানে ভারতের হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের অন্তর্ভুক্ত।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে তৎকালীন সিন্ধু উপত্যকার বাসিন্দাদের শুয়োর, গোরু, মোষ, ভেড়া ও ছাগলের মাংস ও দুগ্ধজাত খাবারদাবার খাওয়ার নিয়মিত অভ্যাস ছিল। এছাড়া অন্যান্য প্রাণীসম্পদও প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করত তখনকার মানুষ। উত্তর-পশ্চিম ভারতের যেসব জায়গায় সিন্ধু সভ্যতা বিস্তৃত ছিল, সে সব জায়গা থেকে উদ্ধার হওয়া সেযুগের চিনামাটির বাসনপত্রে সিন্ধু সভ্যতার মানুষের আমিষের প্রতি অনুরাগের প্রত্নতাত্ত্বিক ও জৈব প্রমাণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন অক্ষয়েতা ও তাঁর সঙ্গী গবেষকরা। এই সমীক্ষায় অংশ নেন পুনের ডেকান কলেজের প্রাক্তন উপাচার্য তথা বিশিষ্ট প্রত্নতাত্ত্বিক অধ্যাপক বসন্ত শিন্ডে এবং বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবীন্দ্র এন সিং ছাড়াও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিরিয়াম কিউবাস, অলিভার ই ক্রেগ, কার্ল পি হেরন, তামসিন সি ও কর্নেল, ক্যামেরন এ পেট্রি প্রমুখ। সিন্ধু সভ্যতার বেশিরভাগ অংশই বর্তমানে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের অন্তর্গত। বাকি সামান্য অংশ রয়েছে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিমাঞ্চলে। যদিও আধুনিক ঐতিহাসিকরা মনে করেন, সিন্ধু সভ্যতার ব্যাপ্তি অনুমানের চেয়ে আরও বেশি ছিল। সিন্ধুতীরবর্তী মানুষের খাদ্যাভ্যাস জানতে অক্ষয়েতারা বেছে নিয়েছিলেন প্রাচীন সভ্যতার ভারতীয় অংশটিকে। উত্তরপ্রদেশের পাঁচটি গ্রাম মিরাটের আলমগিরপুর হরিয়ানার হিসারের মাসুদপুর, হিসারের লহারি রাঘো, হরিয়ানার ভিওয়ানির খনক এবং দুই শহর রোহতক জেলার ফারমানা ও হিসারের রাখিগোরিতে সমীক্ষা চালানো হয়। প্রত্নতাত্ত্বিক খোঁড়াখুঁড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া সিন্ধু সভ্যতার যুগের মৃৎশিল্পীদের তৈরি ১৭২টি প্রাচীন চিনামাটির থালা, বাটির ভগ্নাবশেষ পরীক্ষা করে সেই সময়ে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের ধরন জানার চেষ্টা হয়। সিন্ধু সভ্যতার মানুষ মোটের ওপর শৌখিন, খাদ্যরসিক, শিল্পপ্রবণ ও উদার প্রকৃতির ছিল। সাম্প্রতিক গবেষণাতেও তার উল্লেখ রয়েছে।

- Advertisement -