শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার : পিঁপড়ের ডিম সংগ্রহ করেই বাড়তি আয়ের মুখ দেখেছেন কোচবিহারের প্রত্যন্ত গ্রাম খাগরিবাড়ির বেশ কিছু বাসিন্দা। মূলত ছিপ দিয়ে মাছ ধরার জন্য টোপ হিসাবে ব্যবহার করা হয় পিঁপড়ের ডিম। কোচবিহারের বাজারগুলিতে এর চাহিদাও রয়েছে বেশ ভালো। এই ডিম সাধারণত দক্ষিণবঙ্গ থেকে আমদানি হয়। তার বাজার দেখে খাগরিবাড়ির অখিল সরকার, রামচরণ তালুকদার, রজত দাস, সুধন রায় সহ বেশ কয়েকজন এখন পিঁপড়ের ডিম সংগ্রহকে পেশা হিসাবে নিয়েছেন। এক কেজি ডিম সংগ্রহ করতে পারলে রোজগার হচ্ছে ৩০০-৪০০ টাকা।

ওই পেশায় যুক্ত কয়েজন জানান, যে ধরনের পিঁপড়ের ডিম মাছ ধরার জন্য ব্যবহার করা হয় তার চাহিদাই সবথেকে বেশি। সাধারণত সোনালি রঙের এই পিঁপড়ে ঝোপঝাড় বা বড়ো গাছের উপরে তিন-চারটে পাতাকে মুড়ে একটি বাসা তৈরি করে। পিঁপড়ের শরীর থেকে নিঃসৃত একপ্রকার রস দিয়ে বাসা তৈরি করা হয়। সেখানেই থাকে হাজার হাজার পিঁপড়ে। বর্ষা ও শীত শুরু হওয়ার আগে সেই বাসায় ডিম পাড়ে পিঁপড়েরা। সেই ডিমগুলিই সুকৌশলে সংগ্রহ করেন সুধন রায়, অখিল রায়ের মতো কয়েজন। একটি লম্বা বাঁশের মাথায় ডালি বাঁধা হয়। পিঁপড়ের বাসা খুঁজে সেখানে সেই বাঁশটি দিয়ে আঘাত করা হয়। ফলে বাসাটি গাছ থেকে আলাদা হয়ে বাঁশে বেঁধে রাখা ডালিতে এসে জড়ো হয়। এ ধরনের পিঁপড়েরা স্বভাবে বেশ সতর্ক। তাই আক্রমণকারীকে পালটা হামলা করে তারা। ফলে যতই সতর্ক থাকুন না কেন পিঁপড়ের কামড় থেকে রেহাই পাওয়া প্রায় অসম্ভব। সেই কামড় সহ্য করেই ডিম জোগাড় করতে হয়।

কোচবিহার-২ ব্লকের পুণ্ডিবাড়ির কয়েক কিলোমিটার দূরে রসমতির জঙ্গল লাগোয়া গ্রাম খাগরিবাড়ি। সেখানকার বেশকিছু বাসিন্দা যুক্ত রয়েছেন এই পেশায়। সুধন রায় বলেন, এই কাজের জন্য অভিজ্ঞতা থাকার প্রযোজন। বাসা দেখে বুঝতে হবে কোন বাসায় ডিম রয়েছে। কৌশলে তা গাছ থেকে নামানো হয়। একটি বাসা থেকে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত পিঁপড়ের ডিম পাওয়া য়ায়। আমরা নিজেরা মাছ ধরার জন্যও এই ডিম ব্যবহার করি। রজত দাস বলেন, বাজারগুলিতে ক্রেতাদের কাছে ৭০০-৮০০ টাকা কেজি দরে ডিম বিক্রি হয়। তবে আমরা পাইকারদের কাছে ডিম বিক্রি করে ৪০০ টাকার বেশি পাই না।  মূলত কৃষিকাজ করলেও পিঁপড়ের ডিম সংগ্রহের পেশাতেও যুক্ত রয়েছি। এই ডিম মাছের খুব প্রিয় খাবার। তাই ছিপ দিয়ে যাঁরা মাছ ধরেন তাঁদের অধিকাংশই এই টোপ ব্যবহার করেন।

কোচবিহারের ভবানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী অমিত বণিক বলেন, চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় আমাদের কখনো-কখনো ৬০০ টাকা কেজিতে ডিম কিনতে হয়। আবার দুদিনের বেশি এই ডিম রাখলে তা নষ্ট হয়ে য়ায়। তাই বেশি দামেই ডিম বিক্রি করতে হয়।