পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে অ্যাম্বুল্যান্স, প্রতিবাদে সরব রসাখোয়ার বাসিন্দারা

109

রসাখোয়া: পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে বিধায়কের দেওয়া অ্যাম্বুল্যান্স। যার ফলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে রসাখোয়া গ্রামে। বর্তমানে ওই অ্যাম্বুল্যান্সটি রসাখোয়া হাসপাতালে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। জানা গিয়েছে, প্রায় ৬ বছর আগে রসাখোয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় দু লক্ষ বাসিন্দাকে বিনে পয়সায় অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা দেওয়ার জন্য বিধায়ক কোটা থেকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন গোকুল রায়। সেই টাকায় অ্যাম্বুল্যান্স কেনা হয়। কিন্তু ২০১৮ সাল থেকে ওই অ্যাম্বুল্যান্স রসাখোয়া হাসপাতালে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যেকারণে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের মোটা টাকার বিনিময়ে অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা নিতে হচ্ছে।

এদিকে, অ্যাম্বুল্যান্স নষ্ট হতে দেখে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন রসাখোয়া গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁরা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, দীর্ঘ তিন বছর ধরে অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা দেওয়ার আবেদন গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। প্রত্যন্ত গ্রামের গর্ভবতীদের অ্যাম্বুল্যান্সের অভাবে হাতুড়ে অথবা দাইমাদের শরণাপন্ন হতে হয়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে অকেজো হয়ে থাকা অ্যাম্বুল্যান্স ভোটের ইস্যু হতে চলেছে। ভোপলা গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ ইউনিস বলেন, ‘বেহাল রাস্তা ও অ্যাম্বুল্যান্সের অভাবে সীমান্তবর্তী গ্রামের গর্ভবতীরা বাড়িতে প্রসব করতে বাধ্য হন। ১০২ নম্বরে অ্যাম্বুল্যান্সকে ফোন করে আসার কথা বলা হলেও সঠিক সময়ে আসে না।‘

- Advertisement -

ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রাক্তন বিধায়ক গোকুল রায় বলেন, ‘তিন বছর ধরে দুটি অ্যাম্বুল্যান্স ফেলে রেখে নষ্ট করছে। বিদায়ী বিধায়কের নির্দেশে এটা করা হয়েছে।‘ ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী হাফিজুল ইকবাল বলেন, ‘ভোটে জিতলে পড়ে থাকা অ্যাম্বুল্যান্স দুটি ফের সচল করব। সীমান্তবর্তী গ্রামে একটি করে গ্রামীণ হাসপাতাল তৈরি করা হবে। করণদিঘি রসাখোয়াতে একটি মহিলা কলেজ স্থাপন করা হবে।‘

সিপিএমের জেলা সম্পাদক অপূর্ব পাল বলেন, ‘অ্যাম্বুল্যান্স অকেজো থাকায় বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত।‘

তবে তৃণমূলের প্রার্থী গৌতম পাল বলেন, ‘করণদিঘির সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা পাচ্ছেন। ১০২ ফোন করলেই গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করা হয়। বিরোধীরা মাইলেজ নেওয়ার জন্য মিথ্যে অভিযোগ করছেন।‘

রসাখোয়া ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রিঙ্কু ভক্ত বলেন, ‘সমস্ত বিষয় ব্লক প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরকে জানানো হয়েছে।‘