ভোট মিটতেই সেতু তৈরির প্রক্রিয়া বন্ধ শেরপুরে

165

রাহুল দেব, রায়গঞ্জ : দাবি দীর্ঘদিনের। অথচ এখনও স্থায়ী সেতু নেই। বছরের পর বছর নৌকাই ভরসা এলাকার বাসিন্দাদের। সাইকেল, বাইক এমনকি টোটোও নৌকায় নদী পারাপার করে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতু তৈরির জন্য পঞ্চায়েত প্রধানকে বারবার বলা হলেও শুধু প্রতিশ্রুতিই মিলেছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এই অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করছেন শেরপুরের বাসিন্দারা। তাঁরা আরও একবার সেতু তৈরির দাবি তুলেছেন।

রায়গঞ্জ ব্লকের শেরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে কুলিক নদীর ওপর সেতু না থাকায় বিপাকে এলাকাবাসী। ভরা বর্ষায় এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখন প্লাবিত। নদীর ওপারে থাকা শেরপুর লাইনপাড়া, খোকসা, বন্যাগ্রাম, সুবর্ণপুর প্রভৃতি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। শুধু তাই নয়, নদীর ওপারে রয়েছে একটি হাইস্কুল, বেশ কিছু প্রাইমারি স্কুল এবং পঞ্চায়েত অফিস। সেতু না থাকায় প্রতি বছর ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয় বাসিন্দাদের। স্থানীয় বাসিন্দা মনোরঞ্জন সরকার বলেন, নদীর ওপারে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষের বসবাস। নদীতে জল কম থাকলে বাঁশের সাঁকো করা হয়। কিন্তু বর্ষায় সেই সাঁকো ডুবে যায়। এলাকার কোনও রোগীকে রায়গঞ্জে নিয়ে আসতে হলে অ্যাম্বুল্যান্সকে প্রায় এক ঘণ্টা ঘুরে হেমতাবাদ হয়ে যেতে হয়। সেক্ষেত্রে মরণাপন্ন রোগীর প্রাণ সংশয় হয়ে যায়। পঞ্চায়েত ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ওখানে সেতু নির্মাণ হবে। তার জন্য মাটিও পরীক্ষা করা হয়েছিল। কিন্তু ভোট মিটে যাওয়ার পর আর কিছু হয়নি। আমরা চাই, দ্রুত সেতু নির্মাণ করা হোক। স্থানীয় খোকসা বীণাপাণি তপশিলি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শোভন মৈত্র বলেন, নদী পার করেই আমাদের স্কুলে যেতে হয়। নৌকাই একমাত্র ভরসা। জরুরি কাজ পড়লে অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হয়। এখানে যদি পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়, তাহলে ভীষণ সুবিধে হয়।

- Advertisement -

সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান দীপালি বর্মন। তিনি বলেন, নদীর ওপারে স্কুল, পঞ্চায়েত অফিস, স্বাস্থ্যকেন্দ্র সহ অনেক কিছুই আছে। এর আগে প্রশাসনের কাছে কুলিকের ওপর পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। দাবি জানানো হয়েছে রায়গঞ্জের সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরীকেও। এখনও কোনও সুরাহা হয়নি। এনিয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি কবিতা বর্মনকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।