শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়িতে পলিব্যাগ-বিরোধী অভিযানের ফলে চাহিদা বেড়েছে কাগজের ঠোঙার। এতে নতুন করে আশার আলো দেখছেন এক সময়ে ঠোঙাবস্তি নামে পরিচিত সূর্য সেন কলোনির বি ব্লকের নেপালিবস্তির বাসিন্দারা।

এই বস্তি বছর তিরিশেক আগে লোকমুখে ঠোঙাবস্তি নামে পরিচিত ছিল। সেইসময় বাজারের ব্যবসায়ীরা এই বস্তিতে এসে কেজিপ্রতি মজুরিতে ঠোঙা তৈরির প্রস্তাব দেন। সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায় কয়েকটি পরিবার। তৎকালীন সময়ে কেজিপ্রতি ২০ পয়সা মজুরিতে ঠোঙা তৈরির কাজ শুরু হয়। ধীরে ধীরে এলাকার পঁয়ত্রিশটি পরিবারের কাছে এই ঠোঙাই হয়ে ওঠে জীবিকার প্রধান অবলম্বন। সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে মজুরিও। কিন্তু বছর কুড়ি আগে পলিব্যাগের ব্যবহার শুরু হতেই ধীরে ধীরে কাগজের ঠোঙার বরাত কমে যায়। দুবেলা ভাতের টাকা পর্যন্ত না জোটায় পরিবারগুলিও একে একে এই জীবিকা ছাড়তে বাধ্য হয়। পঁয়ত্রিশটির মধ্যে চৌত্রিশটি পরিবার এই কাজ ছেড়ে দিলেও ছাড়েননি মালা বাড়ুই।

অন্য কোনো পথ না থাকায় যেটুকু বরাত আসে তার মধ্য দিয়ে কোনোভাবে তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে সংসার চালাতে থাকেন তিনি। মালাদেবী এই জীবিকায় থাকলেও এলাকার ঠোঙাবস্তির পরিচিতি অবশ্য হারিযে যায়। কিন্তু বছর দুয়েক ধরে পলিব্যাগ বন্ধে বিভিন্ন সময় প্রশাসনের হুঁশিয়ারি, সচেতনতা মিছিল, অভিযানের ফলে পলিব্যাগ বন্ধের আশায় নতুন করে ঠোঙা তৈরি করে অর্থ উপার্জনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন নেপালিবস্তির মহিলারা। গত দুই বছরে একটু হলেও চাহিদা বেড়েছে ঠোঙার। আরও চাহিদা বাড়বে এই আশায় মালাদেবীকে প্রশিক্ষকের জায়গা দিয়ে ঠোঙা তৈরি করে অর্থ উপার্জনের আশায় পনেরোটি পরিবারের বউ, মেয়ে, বৃদ্ধারা ঠোঙা বানানোর কাজে নেমেছেন।

মালাদেবী বলেন, স্বামী আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় ছেলেমেয়েদের বড়ো করার জন্য এই কাগজের ঠোঙা বিক্রিই মূল জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম। বছর পাঁচেক আগে সপ্তাহে খুব বেশি হলে পঞ্চাশ কেজি  বরাত পেতাম। এখন সেটা একশো-দুশো কেজি হয়। চাহিদা বাড়ায় এলাকাবাসীর মধ্যেও নতুন করে অর্থ উপার্জনের আশা জন্মাতে শুরু করেছে। আয়ের টাকা আমরা সবাই মিলে ভাগ করে নেই। মালাদেবীর সঙ্গেই কাগজের ঠোঙা তৈরির সময় বছর পঁচিশের মৌমিতা মণ্ডল বলে উঠলেন, পলিব্যাগ বন্ধ হলে একদিকে যেমন পরিবেশ বাঁচবে তেমনই আমাদের মতো মানুষের আয়ের নতুন উৎস হবে। শহরের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সকলের উচিত পলিব্যাগের ব্যবহার বন্ধ করা।

পুরনিগমের পরিবেশ বিভাগের মেয়র পারিষদ মুকুল সেনগুপ্ত বলেন, যাঁরা পলিব্যাগের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারযোগ্য এই ধরনের সামগ্রী তৈরি করবেন তাঁদের আমরা সবধরনের সহযোগিতা করব। প্রয়োজনে আর্থিক দিক দিয়ে তাঁদের সহযোগিতা করা হবে।