এলাচে আয় নেই, পর্যটনের বিকাশ চাইছে তোদে-তাংতা

545

বিদেশ বসু, তোদে : প্রায এক যুগ ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না বললেই চলে। মূলত এলাচ চাষ করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন স্থানীয বাসিন্দারা। এখন অবশ্য সেভাবে এলাচের দাম মিলছে না। তাছাড়া রোগপোকার আক্রমণে এলাচের উতপাদনও কমেছে। তাই আয়ের পথও কার্যত বন্ধ। এমন অবস্থায পর্যটন নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে তোদে, তাংতা।
কালিম্পং জেলার গরুবাথান ব্লকের আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী এলাকা তোদে, তাংতা। পাহাড় থেকে নেমে আসা নদী-ঝোরা অপরূপ ভঙ্গিতে ছুটে চলেছে এখানে। নদী-ঝোরার একপাশে ভারত, অন্য ধারে ভুটান। বৈচিত্র‌্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এলাকাগুলির সম্পদ। স্থানীয বাসিন্দাদের বক্তব্য, এলাচ উত্পাদনের জন্য একসময় তোদে, তাংতা বিখ্যাত ছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে রোগপোকার উপদ্রবে এলাচের উত্পাদন কমেছে। সেভাবে দামও মিলছে না। শুধুমাত্র এলাচ চাষের উপর নির্ভর করে সংসার চালানো মুশকিল হয়ে পড়েছে। তাই বিকল্প রোজগারের পথ খুঁজছেন বাসিন্দাদের অধিকাংশ। এক্ষেত্রে পর্যটনই ভরসা বলে মনে করছেন তোদে, তাংতার বাসিন্দারা।
নাগরাকাটার খুনিয়া মোড় থেকে ঝালং হযে তোদে পর্যন্ত পাকা রাস্তা হয়েছে। জিটিএ-র তত্ত্বাবধানে তাংতা এলাকাতেও রাস্তা তৈরির কাজ চলছে। আগে বর্ষাকালে তাংতা এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হযে পড়ত। স্থানীয়দের বক্তব্য, তালাখোলার উপর সেতু তৈরি হলে সমগ্র এলাকার আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বদলে যাবে। তোদের বাসিন্দা লাকপা নাগমে ভুটিযা বলেন, তোদে, তাংতা এলাকাতে বেশ কিছু ভিউ পয়েন্ট আছে। কোঠিদাড়া থেকে সূর্যোদয়ে অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায। পাশেই রিক এবং রেচেলার বনাঞ্চল আছে। পাহাড়ি ঝরনা আছে। পবিত্র বৌদ্ধ গুম্ফা, গির্জা পরিবেশকে বৈচিত্র‌্যময় করেছে। অদূর পাহাড়ে ডোকালাম দেখা যায়। তিনি জানান, এলাকাতে দাবাইখোলা বলে একটি পাহাড়ি ঝোরা আছে। এই ঝোরার সঙ্গে স্থানীয়দের চিকিত্সা বিশ্বাস জড়িয়ে আছে। ঝোরার জল এক জায়গায় জমা করে সেখানে পাথর গরম করে ফেলে দেওযা হয়। এতে জলের উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়। এই বিশেষ উষ্ণ জলে স্নান করলে নাকি অনেক রোগ দূর হয়, এমনটাই বিশ্বাস স্থানীয়দের। পর্যটকদের অনেকেও এবিষয়ে উত্সাহ দেখাচ্ছেন।
স্থানীয বাসিন্দা হরকা বাহাদুর ঘালে বলেন, আমাদের এলাকাতে সরকারি সহযোগিতায ঘর তৈরি হয়েছে। বাসিন্দারা এই ঘরগুলিকে পর্যটনের স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছেন। অনেক বাসিন্দাই হোমস্টে নিযে উত্সাহ দেখাচ্ছেন। তোদে, তাংতা নিযে যথেষ্ট আশাবাদী পর্যটন উদ্যোগী মহল। পর্যটন উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত রাজেন প্রধান বলেন, আন্তর্জাতিক সীমান্তে অবস্থিত এলাকাগুলিতে পর্যটন বিকাশের সম্ভাবনা আছে। আপার তাংতা পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ শেষ হলে এলাকার পরিস্থিতি আমূল বদলে যাবে। আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
তোদের পাশে রয়েছে পাহাড়ি ফুলসমৃদ্ধ গ্রাম চিসাং। এখানে হোমস্টে খুলে সাড়া ফেলেছেন অ্যান্ড্রনিকুস রাই। তিনি বলেন, দূরদূরান্তের পর্যটকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। যাদবপুরের পর্যটক পার্থ সেন, সুস্মিতা সেন এলাকা ঘুরে মোহিত। সুস্মিতাদেবী বলেন, আমরা পাহাড়ের অন্তরালে লুকিযে থাকা এই এলাকায় এসে হতবাক হয়ে গেছি। এখানকার বাসিন্দাদের আতিথেয়তা আমাদের মুগ্ধ করেছে।
গরুবাথানের বিডিও বিশ্বরঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, তাংতা পর্যন্ত যাওযার জন্য সেতু তৈরি হযে যাবে। এখন সরকারি উদ্যোগে হোমস্টে-র রেজিস্ট্রেশন চলছে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা পর্যটন বিকাশের ক্ষেত্রে যাবতীয় সহযোগিতা করব।