অসমে এনআরসিতে সিঁদুরে মেঘ তুফানগঞ্জে

1249

শিশির গুহ, তুফানগঞ্জ : অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তুফানগঞ্জ মহকুমার মানুষজন। এ রাজ্যেও এনআরসি চালু হলে নিজ ভূমে পরবাসী হওয়ার আশঙ্কা এখন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে অসম লাগোয়া এই এলাকার বাসিন্দাদের। তাই বিপদ আসার আগেই নাগরিকত্ব প্রমাণের কাগজপত্র জোগাড়ের তোড়জোড় শুরু করেছেন তাঁরা। যেহেতু ভিত্তিবর্ষ ধরা হয়েছে ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ, তাই ওই সময়ের আগের কাগজপত্র গুছিয়ে নিতে হন্যে হয়ে ঘুরছেন মানুষজন। আচমকাই বেড়ে গিয়েছে ৭১ সালের আগের ভোটার লিস্টের চাহিদা। এই মওকায় এক শ্রেণির দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ, এ বিষয়ে প্রশাসনের তরফে কোনো সহযোগিতা মিলছে না।

অসমে এনআরসিতে প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গোটা দেশে তোলপাড় শুরু হলেও কেন্দ্রীয় সরকার অনড় রয়েছে। শুধু তাই নয়, এ রাজ্যেও নাগরিকপঞ্জি চালু হবে বলে হুমকি দিয়ে রেখেছেন বিজেপি নেতারা। এই অবস্থায় চিন্তায় ঘুম ছুটেছে তুফানগঞ্জের বাসিন্দাদের। শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের  প্রবীণ বাসিন্দা নারায়ণ চক্রবর্তী বলেন, শুনছি, এ রাজ্যেও এনআরসি চালু হবে। পুরোনো দিনের কাগজপত্র কোথায় রয়েছে খুঁজে পাচ্ছি না। ৭১ সালের আগের ভোটার তালিকা জোগাড়ের চেষ্টা করছি। আবার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুব্রত দাস ১৯৬০ সালের ভোটার লিস্ট জোগাড় করে কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন। তিনি বলেন, পুজোর পর কলকাতায় আর্কাইভ অফিসে যাব। সেখানে পুরোনো কাগজপত্রের খোঁজ করব। শহরের মতো একই অবস্থা গ্রামেরও। নাটাবাড়ির বাসিন্দা গৌতম সরকার বলেন, এ রাজ্যেও এনআরসি চালু হবে শুনে খুব উৎকণ্ঠায় রয়েছি। পুরোনো দলিল খুঁজে পাচ্ছি না। এসডিওর অফিস থেকে ৭২ সালের কাগজ পেয়েছি। তাই খুব সমস্যায় আছি। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পুরোনো ভোটার তালিকা সরবরাহ করুক।

এই পরিস্থিতিতে ৭১ সালের আগের ভোটার লিস্ট পাইয়ে দিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দালালচক্র। এক-একটা ভোটার লিস্টের দাম উঠেছে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, তিনি পুরোনো ভোটার তালিকা পেতে দালালকে হাজার টাকা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তুফানগঞ্জের মহকুমাশাসক অরবিন্দ ঘোষ বলেন, স্টেট আর্কাইভে কেউ আবেদন করলে সার্টিফায়েড কপি পাওয়া যায়। তবে ভোটার তালিকা পাইয়ে দিতে দালালচক্রের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।