বেড়ার ‘কাঁটা’ উপেক্ষা করে এপারের বিসর্জনে মাতল ওপার বাংলা

1172

মেখলিগঞ্জ: কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে দাঁড়িয়ে দূর থেকে এবারও পড়শী দেশের বিসর্জনের আনন্দ উপভোগ করতে ভুললেননা বাংলাদেশের মানুষজন। মঙ্গলবার সকাল থেকে এই দৃশ্য চোখে পড়ল মেখলিগঞ্জ ব্লকের বাগডোকরা-ফুলকাডাবরি গ্রামপঞ্চায়েতের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ৫৬ হেমকুমারী গোলাপাড়া গ্রামে। এই গ্রামে এবার ছিল মায়ের আগমনের দ্বিতীয়তম বর্ষ।

যদিও মাঝে কাঁটাতারের বেড়া এবং সীমান্তরক্ষীবাহিনীর নজরদারির কারণে এপারে এসে পুজো দেখা সম্ভব হয়নি ওপারের মানুষদের। তবে পুজোর প্রতিদিনই ঢিলছোড়া দূরত্বে বসে ওপারের মানুষজন এপারের পূজানুষ্ঠানের দৃশ্য দেখার চেষ্টা করেছেন। বিসর্জনেও দুপারেই নাচলেন দুই দেশের মানুষজন। কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁক দিয়ে চলল শুভেচ্ছা বিনিময়ের পালাও। যার স্বাক্ষী থাকলেন সীমান্তের বিএসএফ জওয়ানেরাও।

- Advertisement -

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওপারের বাঁশকাটা এবং ওই এলাকার আশেপাশে কোনও দুর্গাপূজা হয়না। পুজো দেখতে হলে পাটগ্রামে যেতে হয়। তাই এপারের ভারতের দুর্গাপূজার আনন্দ দূর থেকে তাঁরাও উপভোগ করেছেন গত কয়েক বছর থেকেই। তবে প্রতিমা বিসর্জনের আনন্দের পাশাপাশি এবারও কাঁদলেন গ্রামের অনেকে। তাদের কথায় উত্তরবঙ্গ সংবাদে খবর পড়ার পর দুই ব্যাবসায়ীর সহযোগিতায় দু বছর আগে এই গ্রামে প্রথম পুজো হয়। সেইভাবে এবারও মায়ের পদার্পণ ঘটেছিল। এরপর মাকে বিসর্জন দিতে হল। তাই মন খারাপ।

স্থানীয় গ্রামপঞ্চায়েত সদস্য তথা পুজোর অন্যতম আয়োজক রঞ্জন রায় বলেন, “দুর্গা পুজোড় আনন্দ তাঁরা উপভোগ করেছেন। তবে করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবার তাঁরা মা দুর্গার আরাধনায় সামিল হয়েছিলেন। মায়ের বিদায় বেলায় এবারও মন খারাপ হয়েছে তাদের অনেকের।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বাগডোকরা-ফুলকাডাবরি গ্রামপঞ্চায়েতের ৫৬ হেমকুমারি এই গোলাপাড়া গ্রামে অর্থাভাবে আগে দুর্গা পুজো হয়নি। তিন বছর ধরে দুর্গা পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। চারদিক বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ঘেরা গ্রামের অধিকাংশ মানুষের আর্থিক অবস্থা খারাপ। ষোলো আনা মানুষই কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। তাতেও খুব একটা লাভের মুখ দেখা সম্ভব হয়না।

গ্রামের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ থাকার কারণে প্রশাসনের তরফে, বাম আমলে গ্রামটিকে অনুন্নত গ্রাম হিসেবে ঘোষণাও করা হয়েছিল। এই অবস্থায় তাদের গ্রামে আগে দুর্গা পুজো করা সম্ভব হচ্ছিলনা।

পুজোর আনন্দে পুজোর কটা দিন মেতে উঠেছিলেন এই সীমান্ত এলাকার মানুষেরা। বিসর্জনের আনন্দেও সামিল হলেন অনেকে। কাঁটাতারের বেড়ার ভেতর থেকে মা দুর্গাকে ট্রাক্টরে চাপিয়ে নিয়ে এসে দূরবর্তী মেখলিগঞ্জ শহরের তিস্তা নদীতে বিসর্জন দিয়েছেন। কাঁটাতারের বেড়ার পাশ দিয়ে বিসর্জনের উদ্দেশ্যে প্রতিমা নিয়ে আসার সময় বেড়ার ওপারে দাঁড়িয়ে নাচতে দেখা গিয়েছে বাংলাদেশের অনেক কচিকাঁচাদেরও।