‘শিলিগুড়ির মন ভালো নেই’

আলখাল্লা খুলে

গৌরীশংকর ভট্টাচার্য (প্রাবন্ধিক) : শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনের হতশ্রী চেহারা। রাস্তা দিয়ে চলা দায়। হাসপাতালের সামনে শৌচালয়ে জল থইথই, তার মধ্যেই লুচি ভাজা হচ্ছে। সুন্দর নাম রয়েছে, কিন্তু নদী নেই। অভিভাবকহীন শহরে বসবাস করছি। রাজনীতির আলখাল্লা খুলে সকলে একজোট হলেই শহরকে তিলোত্তমা রূপ দেওয়া সম্ভব।

- Advertisement -

বসে পরিকল্পনা

শঙ্খ সেন (চিকিৎসক) : বাগডোগরা বিমানবন্দরের কী নাম হবে, এখন না ভাবলেও হবে। শহরটাকে বাঁচাতে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। নর্দমায় কোনো অবস্থাতেই ময়লা ফেলা যাবে না। আমরা ময়লা ফেলে নিকাশি ব্যবস্থা বন্ধ করে দিচ্ছি। নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে আনছি। পুরনিগমের উচিত নজরদারি রাখা, প্রয়োজনে জরিমানা করা। ১৫ দিন মন্ত্রী-মেয়র বসে পরিকল্পনা করলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

মহাগন্ধা

অভয়া বসু (শিক্ষিকা) : মহানন্দায় একসময় মাছ পাওয়া যেত। মহানন্দা এখন মহাগন্ধা হয়ে গিয়েছে। বাইরের লোক এসে শহরটাকে নষ্ট করেনি। আমরা করেছি। আমাদের শাসন করার কেউ নেই মনে হচ্ছে। তাই দিনদিন শহরটা পালটে যাচ্ছে। দূষণ রোধে সকালের দিকে র‌্যালি করা উচিত। কেননা সেসময় রাস্তায় যানবাহন কম থাকে।

বাইরের লোক

অনিমেষ বসু (পরিবেশপ্রেমী) : বাইরের লোকেরা এসেই শহরটাকে নোংরা করছে। রাজনৈতিক কারণেই শহরের কথা না ভেবে বাইরের লোকেদের জায়গা দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রতিবাদ হয়নি। এটা অন্যায় হয়েছে। গোটা শহরটাই এখন বাজারে পরিণত হয়েছে।

জোট বাঁধো

পার্থ চৌধুরি (নাট্যকার) : দলমতনির্বিশেষে যদি আমরা জোট বাঁধি, তবে প্রশাসন বাধ্য হবে প্রযোজনীয় পদক্ষেপ করতে। প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ বন্ধ করতে ধরনায়, প্রয়োজনে অনশনে বসতে রাজি। শহরের সকলকে একজোট হতে হবে।

বিভীষিকা

অমিতাভ কাঞ্জিলাল (অধ্যাপক) : বাগরাকোটের রেলগেট বর্তমানে বিভীষিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিলিগুড়ি কলেজের অবস্থা খুবই খারাপ। একদিন হয়তো শিলিগুড়ি কলেজ বাঁচাও নিয়ে নাগরিক সভা করতে হবে। দ্রুত বিকল্প ক্যাম্পাস প্রয়োজন।

এঁরা কারা

প্রহ্লাদ বণিক (চেয়ারম্যান, ফোসিন) : বিধান মার্কেট নিয়ে অনেক কথাই হচ্ছে। কিন্তু বিধান মার্কেটে নতুন অনেকেই ঢুকে পড়ছেন। এঁরা কারা কেউ জানে না। প্রশাসনও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মার্কেটের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ৭০ থেকে ৮০ হাজার লোক জড়িত, ফলে সেদিকটাও দেখা উচিত।

রক্ষা করতে

গৌতম দেব (পর্যটনমন্ত্রী ও নাগরিক সভার আহ্বায়ক) : শহরের ক্ষমতায় বামেরা ৪০ বছর থাকলেও নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে তেমন কাজ হয়নি। এখনও শহরটাকে নির্মল করা যায়নি। কেন পুরনিগম সাধারণ মানুষের জন্য শৌচালয় তৈরি করতে পারছে না? তবে ৩৪ বছর বা ৮ বছরের ক্ষমতায় থাকা নিয়ে কোনো কথা বলার সময় নয় এখন। কেন্দ্র ও রাজ্যের বাইরে গিয়ে শহরটাকে রক্ষা করতে হবে। কেননা, আমাদের শহরটা আর ভালো নেই।

জবাব মেয়রের

অশোক ভট্টাচার্য (মেয়র) : একক প্রচেষ্টায় এইভাবে নাগরিক সভা ডাকা যায় না। এসজেডিএ-র দুর্নীতির জন্য যে মহানন্দা অ্যাকশন প্ল্যানের কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে, তা নিয়ে কিছু বলা হচ্ছে না কেন? শহরের পানীয় জলপ্রকল্পের কী হল, কেন প্রকল্পটি আটকে রাখা হয়ে? (মেয়র নাগরিক সভায় উপস্থিত ছিলেন না।)