তৃণমূল নেতার দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি বাসিন্দাদের

173

বর্ধমান, ৫ জুনঃ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অনুদানের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য ক্লাবকে চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নালিশ জানালেন বাসিন্দারা। পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘির কলিগ্রামের বাসিন্দারা তাঁদের পাঠানো চিঠিতে ওই নেতার দৌরাত্ম্য ও দুর্নীতির কথা উল্লেখ করেছেন। ক্লাব সদস্যদের অভিযোগ, যুব কল্যাণ দপ্তর তাঁদের এলাকার ক্লাবকে ৪ লক্ষ টাকা অনুদান দেয়। সেই টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকা দিলে ঝামেলা মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে বলেছিলেন এলাকার তৃণমূল নেতা দীনবন্ধু ঘোষ। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার বিকেল থেকে পুলিশের চাপ বাড়ায় ওই তৃণমূল নেতা টাকা নিতে পারেনি। তবে, ক্লাবের রেজ্যুলিউশন খাতা ও ব্যাংকের বই নিয়ে চলে গিয়েছেন। যদিও, অভিযুক্ত ওই তৃণমূল নেতা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

দেওয়ানদিঘি থানার কলিগ্রামে রয়েছে কালিতলা হাটতলা বিদ্যুৎ সংঘ ক্লাব। এই ক্লাবটি বিগত কয়েক বছরে ৪ লক্ষ টাকা সরকারি অনুদান পেয়েছে। ক্লাব সদস্যরা মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে এলাকার তৃণমূল নেতা দীনবন্ধু ঘোষের অত্যাচার ও দৌরাত্ম্যের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, দীনবন্ধু ঘোষের জন্যই ক্লাবের কিছু সদস্য তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁর জন্য ওই নেতা সরকারি অনুদানের টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য এখন অত্যাচার শুরু করেছেন। যদিও, অনুদানের টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকা কাটমানি দিলে ওই তৃণমূল নেতা সমস্ত ঝামেলা মিটিয়ে দেবেন বলছেন। একই অভিযোগ সংক্রান্ত চিঠি ক্লাব কর্তৃপক্ষ শুক্রবার জেলা প্রশাসনকেও ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠিয়েছে। এরপরই দেওয়ানদিঘি থানায় পুলিশ দ্রুত কলিগ্রামে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।

- Advertisement -

কলিগ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রশাসন নড়েচড়ে বসার পর তৃণমূল নেতা এখন চাপ সৃষ্টি করে বলেছেন, ক্লাবের অভ্যন্তরীণ ব্যপারে তিনি নেই। এই মর্মে সদস্যদের তাঁকে লিখে দিতে হবে। গ্রামবাসীদের একাংশ অভিযোগ করেন, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের সবসময়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহারের কথা বলেন। সাধারণ মানুষের পাশে থাকার কথা বলছেন। এদিকে, তৃণমূল নেতা দীনবন্ধুর অসামাজিক কাজকর্মে এলাকায় মানুষজনও বীতশ্রদ্ধ। সমবায় সমিতি থেকে ঋণ দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়া, রাস্তা-নর্দমা দখল, বেআইনি সুদের কারবারে মদত দেওয়া, জমি দখল সহ নানা অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো ক্লাব কর্তৃপক্ষের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা দীনবন্ধু ঘোষ বলেন, তিনি এলাকার প্রতিবাদের মুখ। তিনিই এলাকায় অসামাজিক কাজ-কর্ম বন্ধ করেছেন। তাতে যাঁদের আঁতে ঘা লেগেছে, তাঁরাই এখন বদনাম করতে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। বর্ধমান ১ নম্বর ব্লক তৃণমূলের সভানেত্রী কাকলি তা গুপ্ত মন্তব্য করেছেন, তাঁরাও দীনবন্ধুর উপর নজর রাখছেন। পুলিশও বিষয়টি দেখছে। বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী কটাক্ষ করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর কথা তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীরা যে শোনে না, এই ঘটনা সেটাই প্রমাণ করে দিচ্ছে।