ঔরঙ্গাবাদের দুর্ঘটনায় হুঁশ ফেরেনি শিলিগুড়ির

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : ঔরঙ্গাবাদে মালগাড়ির ধাক্কায় ১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু তারপরেও হুঁশ ফেরেনি। ঘটনার পরেও শিলিগুড়ির বিভিন্ন জায়গায় রেললাইনে বসে চলছে আড্ডা, অনেক শ্রমিক আবার রেললাইন ধরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ফিরছেন। ফলে সাধারণ মানুষের সচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, একইসঙ্গে রেলের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও ঔরঙ্গাবাদের ঘটনার পর উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের তরফে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, পাঁচটি ডিভিশনকে সতর্ক করা হয়েছে। কাটিহার থেকে কোচবিহার, আগরতলা থেকে মালবাজার, সর্বত্রই শুরু হয়েছে নজরদারি।

যদিও এই দাবি এবং বাস্তবের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। শনিবার যার প্রমাণ মিলেছে শিলিগুড়ি শহরের বিভিন্ন জায়গায়। এদিন শিলিগুড়ির দার্জিলিং মোড় সংলগ্ন এলাকায় দেখা গিয়েছে অন্যদিনের মতো রেললাইনের ওপর দিব্যি আড্ডা চলছে। যা দেখে মনেই হবে না দেশে লকডাউন চলছে। ঔরঙ্গাবাদের প্রসঙ্গ তুলে ধরতেই জবাব এল, ওঁরা তো ঘুমিয়ে ছিলেন। তাছাড়া মালগাড়ি দেখলে আমরা উঠে পড়ি। একই ছবি দেখা গিয়েছে মহাবীরস্থান সংলগ্ন শিলিগুড়ি টাউন স্টেশন এলাকা এবং শিলিগুড়ি জংশন এলাকা সহ বিভিন্ন জায়গায়। রেললাইন ধরে অনেককে হাঁটতে দেখা গিয়েছে। এঁদের মধ্যে অধিকাংশই পরিযায়ী শ্রমিক। কেউ ছুটছেন আলিপুরদুয়ার, কেউ আবার ফালাকাটা। চলাচলের অন্য কোনও উপায় না থাকায় এবং রেলপথ দিয়ে যাত্রা সহজ হওয়ায়, রেলপথ ধরে তাঁরা হাঁটছেন বলে জানান।

- Advertisement -

শামুকতলার বাসিন্দা জগন্নাথ বসাক বলেন, শ্রমিকদের জন্য ট্রেন চলবে বলে জানতে পারায় নিউ জলপাইগুড়িতে ছিলাম। কিন্তু ট্রেন পাওয়া যাবে না জানতে পারলাম। তাই হাঁটা লাগালাম। ধূপগুড়ির বাসিন্দা আশিস দাস বলেন, আরও কিছুদিন লকডাউন চলবে বুঝতে পারছি। প্রথমদিকে অনেকেই খাবার দিয়েছে। কিন্তু এখন আর কেউ আমাদের সাহায্য করছেন না। শিলিগুড়িতে থাকলে তো না খেয়ে মরতে হবে। তাই বাড়ি যাচ্ছি। হাঁটা ছাড়া তো কোনও উপায় নেই। আতঙ্কে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এড়াতেই যে অনেক শ্রমিক রেললাইন ধরেছেন, তা স্পষ্ট হয়েছে অনেকের বক্তব্যে। তিনবাত্তি মোড় থেকে ইসলামপুরের উদ্দেশে রওনা দেওয়া দীপঙ্কর দে বলেন, বাস টার্মিনাসে গিয়েছিলাম। কিন্তু শুনলাম অনেক নিয়ম। তাই রেললাইন ধরেছি।

রেললাইনের ওপর দিয়ে কেউ যাতে যাতায়াত না করেন এবং বেআইনি জমায়েত না হয়, তার জন্য ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালু হয়েছে শনিবার থেকে। এই কাজে নিয়োগ করা হয়েছে নতুন পেট্রলিং টিম, ট্র‌্যাকম্যান এবং আরপিএফ ও জিআরপির বিশেষ দলকে। বড় স্টেশন সংলগ্ন এলাকাগুলিতে যাতে মালগাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তার জন্য চালকদের সতর্ক করা হয়েছে বলে রেলকর্তাদের দাবি। এনএফ রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শুভানন চন্দ বলেন, রেললাইনের ওপর সবসময় নজরদারি রাখা হয়। তবে ঔরঙ্গাবাদের ঘটনার পর নতুন করে ট্রেনচালক, ট্র‌্যাকম্যান- প্রত্যেককে সতর্ক করা হয়েছে। রেললাইন সংলগ্ন এলাকাগুলিতেও সতর্কতামূলক প্রচার করা হচ্ছে।