গৌতম সরকার, কামাখ্যাগুড়ি: জল কমতেই  কামাখ্যাগুড়ি পার্শ্বস্থ মরা রায়ডাক নদী আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে। ডাম্পিং গ্রাউন্ড হিসাবে এই নদীকেই ব্যবহার করা হচ্ছে। জমা আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। পরিবেশ দূষণও হচ্ছে দেদার। যার জেরে বসবাস করাই দায় হয়ে পড়ছে মরা রায়ডাক নদীর দুপাশে থাকা বিপিননগর ও পুলপাড় এলাকার বাসিন্দাদের। এ বিষয়ে মানুষের সচেতনতার অভাবকেই দুষেছেন স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুলপাড় চত্বরে সেতুর দুপাশে আবর্জনার জমার পরিমাণ দিনদিন রাড়ছে। রাতের অন্ধকারে সেতু থেকে সেই আবর্জনা নদীতে ফেলা হয় বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। এ মুহূর্তে নদীতে জলের প্রবাহ কমে যাওযায় আবর্জনা স্তূপাকৃতি হয়ে রয়েছে। এর থেকেই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এলাকায়। মরা রায়ডাক নদীর জমা নোংরা জল মশার আঁতুড়ে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও বাজার এলাকার বড়ো বড়ো নিকাশিনালাগুলি এসে মিশেছে মরা রায়ডাক নদীতে। ফলে সারাবছর আবর্জনা ও নিকাশিনালার জল জমে থাকছে নদীগর্ভে। মরা রায়ডাক নদীতে সারাবছর জল থাকে না। শুধুমাত্র বর্ষার তিনমাস জল থাকে এখানে। বর্ষায় জলের স্রোতে আবর্জনা ভেসে চলে যায়। শুধু ওই কয়েকটা মাস দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পান এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা দিলু সাহা বলেন, আবর্জনা ফেলার জন্য নদীকেই বেছে নিচ্ছেন মানুষ। আবর্জনায় ঢেকে যাচ্ছে নদীগর্ভ। আর নিকাশিনালার পচা জল জমে থাকছে নদীগর্ভে। পচা জলের দুর্গন্ধ গ্রাস করছে গোটা এলাকা। এখন বসবাস করাই দায় হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ জানানো হলেও আজ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।  দিলুবাবুর অভিযোগকে সমর্থন করেন ওই এলাকার বাসিন্দা সুব্রত দে, সচিত্র দেসরকার প্রমুখ। তবে কামাখ্যাগুড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সঞ্জয় পাল মরা রায়ডাক নদীতে নোংরা জমার বিষয়ে মানুষের সচেতনতার অভাবকে দাযী করেন। তিনি বলেন, নদীগর্ভকে কোনোভাবেই নোংরা ফেলার জন্য ব্যবহার করা ঠিক নয়। নদীতে নোংরা না ফেলার ব্যাপারে উদ্যোগী হবেন বলে জানান উপপ্রধান।