মরা মহানন্দা পারাপারে ভরসা বাঁশের সাঁকো

মুরতুজ আলম, সামসী : দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে চাঁচল-১ ব্লকের ভগবানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রামদেবপুরে মহানন্দা নদীর ওপর পাকা সেতু তৈরি করা হয়নি। ভোটের মরশুম এলেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রীরা প্রতিশ্রুতির ঝুড়ি নিয়ে হাজির হন। কিন্তু ভোট পার হয়ে গেলে আর তাঁদের দেখা মেলে না। ফলে এখনো বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে হয় কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েক হাজার মানুষকে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাই এবার পাকা সেতুর দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চাঁচল-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আশ্বাস দিয়েছেন, পাকা সেতুর বিষয়টি জেলাপরিষদে তোলা হবে।

রামদেবপুরে মহানন্দা নদীর ওপর দিয়ে প্রতিদিন চাঁচল-১ ব্লকের ভগবানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রামদেবপুর, ভেবা, নয়নপুর, চারালু, অড়বড়া, হরিপুর, ডাড়াকান্দি, চণ্ডীপুর, কালীগঞ্জ প্রভৃতি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এছাড়াও মহানন্দাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এবং খরবা গ্রাম পঞ্চায়েতেরও কয়েক হাজার মানুষও প্রতিদিন নদী পারাপারে এই সেতু ব্যবহার করে থাকেন। পাশাপাশি, উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার থানার গুলন্দর, বরোডাঙ্গি, কাশিবাড়ি, সুবর্ণপুর, মকিমপুর, সামপুর ভবানীপুর, মাধবপুর, গোসাইপুর, পাড়ারগ্রাম প্রভৃতি গ্রামের মানুষও রোজদিন যাতায়াত করেন।

- Advertisement -

এলাকার বাসিন্দা বাপি থোকদার বলেন, রামদেবপুরের ঘাট দিয়ে শুখা মরসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকির্পূণভাবে মরা মহানন্দা নদী পারাপার করা। তবে বর্ষার সময়ে সেই বাঁশের সাঁকো ডুবে যায়। সেইসময় নদী পারাপারে একমাত্র ভরসা ছোটো নৌকো। অতিরিক্ত যাত্রী বহন করার ফলে বর্ষার সময়ে নৌকাডুবিরও আশঙ্কা থাকে। গোলাম রব্বানী নামের এক বাসিন্দা বলেন, এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার পড়ুয়া, স্বাস্থ্যকর্মী, অফিস কাছারির কর্মীরাও বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পার করে থাকেন। এলাকার ব্যবসায়িক মহলও ক্ষুব্ধ। তাই রামদেবপুরে পাকা সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। এই সমস্যা মেটাতে কাঠের সেতু হলেও চলবে। স্কুলপড়ুয়া টুমপি খাতুন বলে, প্রতিদিন সাইকেল নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করতে হয়। আমরা চাই, শীঘ্রই ওই ঘাটে পাকা সেতু নির্মিত হোক।

ওই এলাকার বাসিন্দা আব্বাস আলি বলেন, বাম আমলে পাকা সেতু হয়নি। তৃণমূল জমানায়ও কোনও সাড়াশব্দ নেই। শুধু প্রতিবার ভোটের সময় রামদেবপুরে পাকা সেতুর প্রতিশ্রুতি মেলে। ব্যাস ওই পর্যন্তই। আর কারও দেখা মেলে না। চন্দন থোকদার সহ স্থানীয় কিছু বাসিন্দা বলেন, ওই ঘাটে পাকা সেতু নির্মাণের জন্য বিডিও, এসডিও, ডিএম অফিসে বহুবার বলা হয়েছে। বলা হয়েছে এলাকার বিধায়ক, সাংসদদেরও। তারপরেও কোনও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। চাঁচল-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ওবাইদুল্লাহ চৌধুরি বলেন, ওই ঘাটে পাকা সেতু নির্মাণের বিষয়টি মালদা জেলা পরিষদকে বলা হয়েছে। চাঁচলের বিধায়ক আসিফ মেহবুব বলেন, রামদেবপুরে পাকা সেতু নির্মাণের বিষয়টি বিধানসভায় তোলা হবে। মুখ্যমন্ত্রীকেও আলাদা করে বলা হবে। তবে তিনি বলেন, ওই ঘাটে পাকা সেতু নির্মাণ খুবই দরকার। এতে করে এলাকাবাসীদের খুবই উপকার হবে।