চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : একটা রেলগেট কারও জীবন কেড়ে নিয়েছে, কাউকে সর্বস্বান্ত করেছে। এই রেলগেটটি ১০টি গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষের নিত্য ভোগান্তির কারণ। রেলগেট থেকে নিস্তার পেতে কয়েকবছর আগে রেললাইনে নেমে গ্রামবাসীরা আন্দোলনও করেছিলেন। কিন্তু এলাকার দুই দফার বিধায়ক বা কোনো জনপ্রতিনিধি কেউই রেলগেটে একটা আন্ডারপাস বা ফ্লাইওভারের জন্য উদ্যোগী হননি। রেল কর্তৃপক্ষও তাই এখানে ফ্লাইওভার তৈরির প্রয়োজন বোধ করেনি।

কোচবিহার শহর থেকে মেরেকেটে পাঁচ কিলোমিটার হবে। নিউ কোচবিহার রেলস্টেশন থেকে খুব বেশি হলে এক কিলোমিটার দূরে এই রেলগেটটির একপাশে রয়েছে বাইশগুড়ি গ্রাম। অপরদিকে রয়েছে পেস্টারঝাড়, চাঁপাগুড়ি, ভোগরামগুড়ি, সোনারি, কামারপাড়া, কুটিপাড়া সহ অন্যান্য গ্রাম। ১০ হাজারের উপর বাসিন্দা এই গ্রামগুলিতে থাকেন। তাঁদের কোচবিহার শহরে আসতে হলে এই রেলগেট দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। তাঁদের অভিযোগ, ব্যস্ততম এই রেলগেটটি প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর বন্ধ করা হয় ট্রেন চলাচলের জন্য। কোনো কোনো সময়  সেটা টানা ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ থাকে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই এলাকার মানুষকে শহরে যাতাযাত হয়। রেলগেটে আটকে পড়ে তাঁরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।

- Advertisement -

স্থানীয বাসিন্দা রাজেশ বর্মন, শিবরাম দাস, প্রহ্লাদ বর্মন সহ অনেকেই এই রেলগেট সমস্যা. ভুক্তভোগী। তাঁরা জানান, এখানে একটি ফ্লাইওভার করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এই দাবিতে আন্দোলনও হয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি। কয়েকবছর আগে পেস্টারঝাড় বাজারে আগুন লেগেছিল। তখন দমকলের গাড়ি রেলগেটে প্রায় ৩০ মিনিট আটকে ছিল। দমকলের গাড়ি যখন বাজারে পৌঁছায় ততক্ষণে কয়েকটি দোকান ছাই হয়ে গিয়েছে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা, রোগীদের নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স, এফসিআই-এর মালপত্র নিয়ে যাওয়া লরি রেলগেটে আটকে পড়ছে। কিন্তু কারও কিছু করার নেই। সঞ্জিত দাস নামে এক গ্রামবাসীর অভিজ্ঞতা ভয়াবহ। তিনি বলেন, বাবা গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। শহরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় রেলগেটে আটকে পড়ি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই বাবা রাস্তাতে মারা যান। সেদিন রেলগেট বন্ধ না থাকলে হয়তো বাবা বেঁচে যেতেন।

চকচকা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জয়শ্রী রায় বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা রেলগেটের জন্য খুবই সমস্যায় পড়েছেন। এখানে ফ্লাইওভার হওয়ার কথা শুনেছিলাম। কিন্তু কাজ কিছু হয়নি। কোচবিহার (উত্তর) কেন্দ্রের বিধায়ক নগেন্দ্রনাথ রায় বলেন, এই সমস্যা আমি যথাস্থানে তুলে ধরব। কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক বলেন, ওই জায়গায় ফ্লাইওভার যাতে হয় তার জন্য যতটা করা দরকার করব। রেলমন্ত্রী ও উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলকে চিঠি দেব।  উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের ডিআরএম (আলিপুরদুয়ার) কনভির সৈন জৈন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।