দেওয়ানহাট স্টেশনে সংরক্ষিত টিকিট কাটার ব্যবস্থা চান যাত্রীরা

350

তুষার দেব, দেওয়ানহাট : কোচবিহার-১ ব্লকের একমাত্র রেলস্টেশন দেওয়ানহাটের পরিকাঠামো নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের শেষ নেই। শুধু এই ব্লক নয়, দিনহাটা ও তুফানগঞ্জের কিছু এলাকার মানুষও এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন। রেলের হিসাবেই এই স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০০০ টাকার টিকিট বিক্রি হয়। সবমিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এই স্টেশনের উপর নির্ভরশীল। তবু এই স্টেশনে এখনও দূরপাল্লার ট্রেনের রিজার্ভেশন কাউন্টার চালু হয়নি। স্টেশনে ঢোকার রাস্তার হালও তথৈবচ। যাত্রীরা পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি তুলেছেন। আলিপুরদুয়ারের ডিআরএম কনভীর সৈন জৈন বলেন, দেওয়ানহাট স্টেশনের পরিকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে আমার জানা নেই। যাত্রীরা অভিযোগ জানালে পদক্ষেপ করব।

বর্তমানে বামনহাট থেকে শিয়ালদহগামী উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, শিলিগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারগামী প্যাসেঞ্জার ট্রেন এই স্টেশন হয়ে চলে। প্রতিদিন অন্তত ৫০০ যাত্রী য়াতায়াত করেন। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসের যাত্রীরাও থাকেন। অথচ এই স্টেশন থেকে উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসের টিকিট তাঁরা কাটতে পারেন না। যাত্রীরা জানিয়েছেন, তাঁদের দূরবর্তী কোচবিহার অথবা নিউ কোচবিহার স্টেশনে গিয়ে সংরক্ষিত টিকিট কাটতে হয়। এতে খরচের পাশাপাশি যথেষ্ট সময় লাগে। ওইসব স্টেশনে গিয়ে লম্বা লাইন এড়াতে সাইবার ক্যাফেতে অতিরিক্ত চার্জ দিয়ে টিকিট কাটতে বাধ্য হন তাঁরা।

- Advertisement -

কোচবিহারে রাজ আমলে ১৮৯৪ সালে ডুয়ার্সের জয়ন্তী থেকে তৎকালীন বাংলাদেশের লালমণিরহাট পর্যন্ত ন্যারোগেজ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হয়। এই রেলপথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ছিল দেওয়ানহাট। মাঝে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ফের এই রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হলে দেওয়ানহাট স্টেশন প্রাণ ফিরে পায়। সে সময় উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষ এই স্টেশনের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে কিছু কাজ করে। ২০১৯ সালের শেষদিক উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসের স্টপেজ চালু হলে এই স্টেশনের গুরুত্ব অনেকটা বেড়ে যায়। কোচবিহার-১ ব্লকের দেওয়ানহাট, জিরানপুর, পানিশালা, হাঁড়িভাঙ্গা, পাটছড়া, চান্দামারি, চিলকিরহাট, পুঁটিমারি, ফুলেশ্বরী, দিনহাটা মহকুমার ভেটাগুড়ি এলাকার একাংশ, বুড়িরহাট সহ তুফানগঞ্জ মহকুমার বলরামপুর ১ ও ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা এই স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে শিলিগুড়ি, কলকাতা সহ বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করেন। দেওয়ানহাট চৌপথির দিক থেকে স্টেশনে ঢোকার মূল রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল হয়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এই রাস্তা জলকাদায় একাকার হয়ে যায়। স্টেশনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েন প্রত্যেকে। নিত্যদিন কয়েক হাজার যাত্রী স্টেশনে এলেও এখানে পানীয় জলের সুবন্দোবস্ত নেই। বাধ্য হয়ে যাত্রীদের পানীয় জল কিনতে হয়। স্টেশনের কর্মী-আধিকারিকরাও পানীয় জলের জন্য ভোগেন। স্টেশনের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড়সড়ো সমস্যা রয়েছে। স্টেশনের সীমানাপ্রাচীর না থাকায় বাইরের লোকজন অবাধে স্টেশন হয়ে যাতায়াত করেন। রাতের দিকে নেশাগ্রস্তরা স্টেশন চত্বরে দাপিয়ে বেড়ায়। রাতে স্টেশনের নিরাপত্তার দাযিত্বে সাধারণত জিআরপির একজন সিভিক ভলান্টিয়ার থাকেন। রেলের কর্মীরাই মনে করছেন, স্টেশনে আরপিএফ থাকা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। দেওয়ানহাটের এক গৃহবধূ মানা সরকার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনের পরিকাঠামো উন্নয়নে রেলের নজর দেওয়া প্রয়োজন। এতে প্রত্যেকের সুবিধা হবে। হাঁড়িভাঙ্গা এলাকার কলেজ পড়ুয়া আফসার হক বলেন, পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি স্টেশন চত্বর সাজিয়ে তোলা হোক। সাহেবেরহাট এলাকার ষাটোর্ধ্ব জনৈক নিশীথরঞ্জন রায় বলেন, মাঝে মাঝেই কলকাতায় ছেলের কাছে যেতে হয়। সংরক্ষিত টিকিট কাটা খুব বড় সমস্যা। দেওয়ানহাট স্টেশনে এই ব্যবস্থা চালু হলে আমাদের খুব সুবিধা হবে।