জলপাইগুড়ি থেকে হলদিবাড়ি রাজ্য সড়ক যেন চষা খেত

974

দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি : কোথাও দুই ইঞ্চি, কোথাও পাঁচ ইঞ্চি, কোথাও তার থেকেও বেশি। বর্ষার সময় জল ভরে থাকায় গর্তের গভীরতা বোঝা দায় হয়ে ওঠে। সড়কের চেহারা দেখলে মনে হবে, কোনও একসময় পিচের আস্তরণ ছিল। এখন তা চষা খেতের চেহারা নিয়েছে। না কোনও গ্রামাঞ্চলের রাস্তা নয়। জলপাইগুড়ি থেকে কোচবিহার জেলার হলদিবাড়িগামী রাজ্য সড়কের এমনই হাল। গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পরে সড়কের বর্তমান চেহারা দেখলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে। স্থানীয় মানুষের বক্তব্য, ২৫ কিমি এই সড়কের  ১৪ থেকে ১৬ কিমির অবস্থা খারাপ রয়েছে। তবে জায়গায় জায়গায় এতটাই খারাপ যে, তা চলাচলের উপয়ুক্ত নয়। আবার রাস্তার গর্তে ভারী গাড়ির চাকা পড়ে এতটাই ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয় যে, ভূমিকম্প হচ্ছে মনে করে ঘর থেকেও বেরিয়ে আসেন স্থানীয় মানুষজন। এই অবস্থায় দ্রুত রাস্তা তৈরির দাবি তুলেছেন বাসিন্দারা। পুজোর আগে এই বেহাল সড়কের কোনও ব্যবস্থা না করা হলে অবরোধ আন্দোলন শুরু করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন বাসিন্দারা। সড়কের অবস্থা যে খারাপ সেকথা স্বীকার করে নিয়েছেন জলপাইগুড়ি বিভাগীয় পূর্ত দপ্তরের  এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার কেশব গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ডিপিআর তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলেই ওই সড়কের কাজ শুরু করা হবে।

জলপাইগুড়ি থেকে শিলিগুড়ি বা ডুয়ার্সগামী রাস্তার মতোই, ব্যস্ত  হলদিবাড়িগামী এই রাজ্য সড়ক। জলপাইগুড়ি কদমতলা থেকে শুরু করে খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মণ্ডলঘাট সহ একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতের জনবহুল এলাকা রয়েছে এই সড়কের পাশে। কেবল তাই নয়, গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির বাসিন্দাদের জলপাইগুড়ি যাতায়াতের জন্য এই সড়কের ওপরেই নির্ভর করতে হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে হলদিবাড়িগামী এই সড়কের অবস্থা বেহাল। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি পান্ডাপাড়া কালীবাড়ি মোড় থেকে কাঠের ব্রিজ, ধাপগঞ্জ, রাখালদেবী হয়ে তোড়লপাড়া পর্যন্ত সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। ধাপগঞ্জ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল রহমান বলেন, এর আগেও আমরা এই সড়ক তৈরির দাবি নিয়ে অবরোধ করেছিলাম। তারপরে সড়কের সংস্কার করা হয়। কিন্তু দেখা গেল, কিছুদিনের মধ্যেই আবার সেই পুরোনো চেহারা। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে। বাসিন্দা উত্তম মজুমদার বলেন, সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। অনবরত গাড়ি চলে। গাড়ির চাকা ওই গর্তে পড়লেই শব্দ এবং ঝাঁকুনি হয়। যে কারণে রাতবিরেতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ঝাঁকুনিতে বাড়িঘর কেঁপে ওঠে, মনে হয় ভূমিকম্প হচ্ছে। প্রশাসন পুজোর মধ্যে এই সড়ক নিয়ে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আবার আন্দোলনে নামা হবে।

- Advertisement -

হলদিবাড়ি থেকে তিস্তা নদীর ওপর দিয়ে মেখলিগঞ্জ যাওয়ার জয়ী সেতুর কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। যে কারণে হলদিবাড়ির এই রাজ্য সড়ক দিয়ে ভারী যানবাহনের যাতায়াতও বেড়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারী ট্রাক, গাড়ি যাওয়ার কারণে এই সড়কের অবস্থা এমন হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, প্রতিদিন আমাকে মোটরবাইকে ব্যবসার কাজে জলপাইগুড়ি যেতে হয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এই রাস্তা আর রাস্তা নেই। গাড়ি চালানো তো দূরের কথা হেঁটে যাওয়াও সমস্যা। খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুভাষ চন্দ বলেন, এই সড়ক সংস্কার করা হলেও সেসব এখন ইতিহাস। রাস্তা সংস্কার করার জন্য জেলা পরিষদের সভাধিপতির সঙ্গে কথা বলা হবে বলে জানান তিনি।